Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রিয়জনের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হতে পারে যা কিছু

পরিবার, স্বজন এবং বন্ধুদের ভূমিকা সবচেয়ে কার্যকরী

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৫, ০১:১২ পিএম

মানুষ মাত্রই মরণশীল। অর্থাৎ, মৃত্যুকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ আমাদের নেই। আজ  নয় তো কাল; একদিন না একদিন প্রত্যেককেই প্রকৃতির অবধারিত নিয়মে মুত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে। তবুও প্রতিটি মৃত্যুই বেদনার। আর সেটি যদি অকালমৃত্যু হয়, তবে সেই বেদনা আরও বহুগুণ বেশি হয়ে দেখা দেয়।

খুব কাছের কারও মৃত্যু অকালমৃত্যু মেনে নেওয়া সত্যিই খুব কঠিন। এমন মৃত্যুতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন পরিবার, স্বজন ও বন্ধুরা।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব কাছের কারও মৃত্যুতে একাকীত্ব, বিষণ্ণতাসহ বিভিন্ন ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

প্রিয়জনের অকালমৃত্যুতে মানসিকভাবে শক্ত ব্যক্তিও ভেঙে পড়তে পারেন। এ সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্য, বন্ধু, স্বজন, প্রতিবেশীদের সহযোগিতা মানসিকভাবে পীড়িত ব্যক্তির মনকে কিছুটা হলেও শান্ত করতে পারে। অর্থাৎ শোক মোকাবিলায় আশেপাশের মানুষের সহযোগিতা ও সমমর্মিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় একটুখানি সমর্থন, একটুখানি স্বান্তনা হয়ে উঠতে পারে মানসিক শক্তির অন্যতম রসদ।

গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবার বা কাছের কারও মৃত্যু, যেমন- স্বামী, স্ত্রী, ভাই, বোন, সন্তান কিংবা বন্ধুর অকালমৃত্যুতে মানুষ ভীষণভাবে মানসিক আঘাত পেয়ে থাকেন। এ ধরনের মানসিক আঘাত পাওয়া ব্যক্তিদের মাঝে মানসিক পীড়া ১৬ সপ্তাহ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত, অথবা আরও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে।

এ ধরনের মানসিক সমস্যা থেকে তীব্র বিষণ্ণতার সৃষ্টি হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রিয়জনের অকালমৃত্যুতে অনেকের মাঝেই এমন ধারণা তৈরি হয় যে; মৃত্যুর পরও প্রিয়জন তাদের সঙ্গেই আছেন বা তাকে দেখতে পাচ্ছেন এমন ভ্রম তৈরি হয়।

এক্ষেত্রে স্বজন হারানো ব্যক্তির কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তার কোনো আচরণে বিরক্তি প্রকাশ না করা, তার কোনো বিষয়ে জাজমেন্টাল না হওয়া, তার ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে না দেওয়া, তার সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্র্ণ। শোকগ্রস্ত ব্যক্তি কান্না করলে তাতে বাধা দেওয়া যাবে না।

ধীরে ধীরে স্বাভাবিক দৈনন্দিন কার্যক্রমে ফেরানোটাও এ ধরনের ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর জন্য সহায়ক।

ভ্রমণ, শখের কোনো কাজ করা, ব্যায়াম বা অল্প পরিশ্রমের শারীরিক অন্য যেকোনো কাজে ধীরে ধীরে নিযুক্ত হলেও শোক কাটানোর জন্য তা সহায়ক হতে পারে। এছাড়া নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্মীয় প্রার্থনা শোকগ্রস্ত ব্যক্তির মানসিক প্রশান্তির জন্য সহায়ক হতে পারে।

আর এসেব ক্ষেত্রে পরিবার, স্বজন এবং বন্ধুদের ভূমিকা সবচেয়ে কার্যকরী। শোকগ্রস্ত ব্যক্তিকে এ সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় দিতে হবে। যদি পরিচর্যা এবং সমমর্মিতা ব্যক্তি মানসিক অবস্থার উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন না করে তাহলে বশ্যই কোনো মনরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, এ ধরনের শোকগ্রস্ত পরিস্থিতিতে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ না পেলে মানসিক পীড়া সহ্য করতে না পেরে অনেকেই নিজের জন্য ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারেন।

প্রিয়জনের অকালমৃত্যু মনকে বিচলিত করে এবং মনোবল ভেঙে দেয়। মনের মাঝে সৃষ্টি করে চরম অসহায়ত্ব। কিন্তু মৃত্যুকে মেনে নিতেই হয়। মেনে নিয়েই জীবনে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। এই কঠিন বাস্তবতা যারা মেনে নিতে পারেন না তাদের মাঝেই বিভিন্ন মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হয়। আর এমন ব্যক্তিদের জন্যই বিশেষ মানসিক পরিচর্যা ও সহায়তার প্রয়োজন হয়; যেন তারা আবার স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে পারেন।

সাইকোলজি টু’ডে অবলম্বনে।

   

About

Popular Links

x