বগুড়ায় স্বামী কারাগারে থাকায় ভয়ভীতি দেখিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে বিভিন্ন সময় ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বর্তমানে নির্যাতনের শিকার ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম এ তথ্য দিয়েছেন।
এর আগে, মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুজনকে আটক করে পুলিশ। রাতেই ওই তিনব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
অভিযুক্তরা হলেন, মাহবুবুর রহমান, আলমগীর হোসেন এবং শহিদুল ইসলাম। তিনজনই বগুড়া সদর উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার ওই নারীর স্বামী একটি মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। এ সুযোগে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় ওই নারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। কেউ কেউ তাকে বাড়ি থেকে অন্যত্র নিয়েও ধর্ষণ করেন। ফলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন ওই নারী।
এদিকে সম্প্রতি ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী জামিনে ছাড়া পেয়ে বাড়িতে আসেন। স্ত্রীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে প্রশ্ন করলে তিনি (নারী) তার উপর নির্যাতনের ঘটনা খুলে বলেন। ঘটনা জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শহিদুল ও আলমগীরকে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। তবে অপর অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমান পালিয়ে গেছেন।
ওই নারীর স্বামী জানান, তিনি একটি মামলায় কারাগারে থাকাকালে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করেছেন অভিযুক্তরা। এ ঘটনা যাতে কাউকে না বলে সেজন্য তার স্ত্রীকে ভয়ভীতি দেখাতো তারা।”
ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, ধর্ষণে জড়িত তিনজনের নাম এসেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। নির্যাতনের শিকার নারীকে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য বুধবার বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।



