বাবা-মা ছাড়া অন্য কারোর ঠোঁটের স্পর্শেই শিশুর শরীরে ছড়াতে পারে বিপজ্জনক ভাইরাস
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৫৭
শিশুর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে অনেকেই গালে, কপালে কিংবা ঠোঁটে চুমু খান। তবে এ অভ্যাসের মধ্য দিয়ে শিশুর শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ। বিশেষ করে নবজাতক ও অল্প বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। কারণ, তাদের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা পুরোপুরি পরিণত না হওয়ায় কিছু সংক্রমণ গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসের সংক্রমণ নবজাতকের জন্য বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। ঠোঁটে জ্বরঠোসা বা কোল্ড সোর থাকলে চুমুর মাধ্যমে ভাইরাসটি শিশুর শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। নবজাতকের ক্ষেত্রে এ সংক্রমণ গুরুতর অসুস্থতা এমনকি প্রাণঘাতী জটিলতাও সৃষ্টি করতে পারে।এ ছাড়া সর্দি-কাশি, ফ্লু এবং অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণেও আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে শিশু সংক্রমিত হতে পারে। কিছু জীবাণু লালা বা মুখের সংস্পর্শেও ছড়াতে পারে। তবে চুমু খেলেই শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায় এমন দাবি সঠিক নয়। ঝুঁকি নির্ভর করে কোন জীবাণুর সংস্পর্শ ঘটছে, শিশুর বয়স এবং তার শারীরিক অবস্থার ওপর। নবজাতকের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা বিকাশের পর্যায়ে থাকে। এ কারণে হারপিসের মতো কিছু সংক্রমণ তাদের শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই ঠোঁটে জ্বরঠোসা, জ্বর, সর্দি-কাশি বা অন্য কোনো সংক্রমণের লক্ষণ থাকলে শিশুকে চুমু খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।শুধু বাবা-মা নন, পরিবারের অন্য সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদেরও শিশুর কাছে যাওয়ার সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। শিশুকে কোলে নেওয়ার আগে হাত ধোয়া এবং অসুস্থ অবস্থায় শিশুর খুব কাছাকাছি যাওয়া এড়িয়ে চলা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। পাঁচ থেকে দশ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রেও ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে কিছু সংক্রমণ ছড়াতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্লু, সর্দি-কাশি, হারপিস এবং সংক্রামক মনোনিউক্লিওসিস যা সাধারণভাবে “কিসিং ডিজিজ” নামেও পরিচিত। তবে দাঁতের ক্ষয়রোগের ক্ষেত্রে শুধু চুমু নয়, মুখের জীবাণু ভাগাভাগি হয় এমন অন্যান্য আচরণও ভূমিকা রাখতে পারে।শিশুকে স্নেহ করার জন্য চুমু খাওয়াই একমাত্র উপায় নয়। কোলে নেওয়া, আদর করা, কথা বলা ও সময় দেওয়ার মাধ্যমেও ভালোবাসা প্রকাশ করা যায়। বিশেষ করে নবজাতকের ক্ষেত্রে মুখে বা ঠোঁটে চুমু না খাওয়া এবং সংক্রমণের লক্ষণ থাকলে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা নিরাপদ অভ্যাস। শিশুর জ্বর, খেতে না চাওয়া, অস্বাভাবিক নিস্তেজতা, শ্বাসকষ্ট কিংবা ত্বকে ফোসকার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নবজাতকের ক্ষেত্রে সংক্রমণের সন্দেহ হলে দেরি না করে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।