ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বার্ষিক মেডিকেল রিপোর্ট প্রকাশের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তার শরীরে ক্যানসার সৃষ্টিকারী টিউমার পাওয়া গিয়েছিল, যা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চমৎকার শারীরিক অবস্থায় আছেন বলে দাবি করেছেন।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
নেতানিয়াহু জানান, এর আগে ২০২৪ সালে তার প্রস্টেট বড় হয়ে যাওয়ায় একটি সফল অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে ছিলেন। সম্প্রতি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় তার প্রস্টেটে এক সেন্টিমিটারেরও কম আয়তনের একটি ক্ষুদ্র ম্যালিগন্যান্ট স্পট বা টিউমার ধরা পড়ে।
তিনি বলেন, “চিকিৎসকরা প্রাথমিক পর্যায়েই এটি শনাক্ত করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে সমস্যাটি সম্পূর্ণ নির্মূল করা হয়েছে। এখন শরীরে এর কোনো চিহ্ন নেই। এটি এখন অতীত।”
৭৬ বছর বয়সী এই ইসরায়েলি নেতা জানান, তার শারীরিক অবস্থার এই তথ্যটি তিনি ইচ্ছা করেই দেরিতে প্রকাশ করেছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান যুদ্ধের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন।
নেতানিয়াহু বলেন, যুদ্ধের চরম উত্তজনার মধ্যে এই খবর প্রকাশ পেলে তেহরান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘আরও বেশি মিথ্যা প্রচারণা’ চালানোর সুযোগ পেত। সেটি রোধ করতেই তিনি গোপনীয়তা বজায় রেখেছিলেন।
নেতানিয়াহুর এই শারীরিক অবস্থার তথ্যটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তার হোয়াইট হাউস সফরের কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরানের সাথে একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তির চেষ্টা চলছে। এছাড়া ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সাথে লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতির মেয়াদও সম্প্রতি তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ এবং নিয়মিত দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তার এই আকস্মিক অসুস্থতার খবর ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।