মাস্টারশেফ ইউকে’তে ‘পিয়াজু-মুড়ি’ দিয়েই বাজিমাত সাবিনার

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় রান্নাবিষয়ক রিয়েলিটি শো “মাস্টারশেফ ইউকে” তে নিজের রান্নার জাদুতে বিচারকদের মুগ্ধ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিযোগী সাবিনা খান। এর মধ্যে প্রতিযোগিতার ২২তম আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবিনার তৈরি করা হালকা নাস্তা “মুড়ি” এবং “পিয়াজু” বিচারকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তার তৈরি পিয়াজু খেয়ে বিচারকরা মুগ্ধ হয়ে এর নামকরণ করেছেন “বুলটস অফ জয়”। 

মাস্টারশেফের মঞ্চে সাবিনা খানের এই জয়যাত্রা বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশি খাবারের জনপ্রিয়তাকে আরও একবার অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল।  

লন্ডনভিত্তিক পরিবেশ উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত সাবিনা খান। কিন্তু রান্নার প্রতি ভালোলাগা থেকেই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তিনি রান্নার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন ঢাকার গুলশানে কাটানো শৈশব আর পারিবারিক ঐতিহ্য থেকে। বর্তমানে তিনি স্বামী আসিফ এবং দুই কিশোর সন্তানকে নিয়ে গ্রেটার লন্ডনে বসবাস করছেন।

রান্নার প্রতি কৌতূহল এবং নিত্যনতুন পরীক্ষার মানসিকতা থেকে তার রান্নাঘরের নাম দিয়েছে “স্বাদের পরীক্ষাগার”। শৈশবে দেখা বিভিন্ন মশলা, রান্নার কৌশল এবং স্বাদের স্মৃতি তার রান্নায় ফুটে ওঠে। তার প্রধান লক্ষ্য হলো খাবারের প্রকৃত স্বাদ অক্ষুণ্ণ রাখা।  

বিভিন্ন অঞ্চলের রন্ধনশৈলী একটি থালায় যেমন পাশাপাশি থাকতে পারে তেমনি খাবারে প্রতিটি উপকরণের মিশ্রণ করলেও তার নিজস্ব পরিচয় থাকবে বলে মনে করেন সাবিনা। খাবারের মূল স্বাদ হারিয়ে ফেলে এমন কোনো মিশ্রণ তিনি পছন্দ করেন না। তার রান্নায় কাঁচামরিচের ঝাল, সরিষা বাটার ঝাঁজ কিংবা পাঁচফোড়নের সুনিপুণ ব্যবহার যেন প্রাধান্য পায়। 

এ বছর মাস্টারশেফ ইউকে’র ২২তম আসরটি বিবিসি ওয়ান এবং আইপ্লেয়ারে সম্প্রচারিত হচ্ছে। প্রতিযোগিতার প্রথম পর্বে বিভিন্ন পেশার ছয়জন প্রতিযোগী অংশ নেন। যাদের মধ্যে ছিলেন একজন আইটি শিক্ষক, একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের এমডি এবং একজন আর্থিক উপদেষ্টা।