জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠন “ওপেক” এবং “ওপেক প্লাস” থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। প্রায় ৬০ বছর ধরে তেল উত্তোলক ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের (অর্গানাইজেশন অব দ্যা পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টি কান্ট্রিজ) সদস্য থাকার পর এই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিল দেশটি।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত জোটটির নেতৃত্বদানকারী দেশ সৌদি আরবের জন্য বড় ধরনের আঘাত।
এই সিদ্ধান্ত আগামী ১ মে থেকে কার্যকর হবে। বুধবার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ওপেকের বৈঠকের আগে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে জোটের বৃহত্তর কাঠামো ওপেকপ্লাস থেকেও সংযুক্ত আরব আমিরাত সরে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ওপেক জোটের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দৃষ্ঠিভঙ্গি এবং পরিবর্তনশীল জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী জানিয়েছেন, এই জোটের অধীনে কোনো দায়বদ্ধতা না থাকায় এখন তারা জ্বালানি নীতি নির্ধারণে আরও বেশি নমনীয়তা ও স্বাধীনতা পাবেন।
দেশটির এমন সিদ্ধান্তের ফলে জোটের ভেতর বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত এমন সময় এলো, যখন ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
১৯৬৭ সালে ওপেকের সদস্য হয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি বেরিয়ে যাওয়ার পর তেল রপ্তানিকারক এই জোটে সদস্য সংখ্যা দাঁড়াবে ১১-তে।
একজন বিশ্লেষক এ সিদ্ধান্তকে “ওপেকের শেষ অধ্যায়ের শুরু” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ওপেকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, আরব আমিরাত বছরে ২৯ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। অন্যদিকে, ওপেকের নেতৃত্ব দেওয়া সৌদি আরব উৎপাদন করে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল।
১৯৬০ সালে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব এবং ভেনিজুয়েলা—এই পাঁচটি দেশের হাত ধরে ওপেক গঠিত হয়েছিল। সদস্য দেশগুলোর জন্য স্থিতিশীল আয় নিশ্চিত করতে তেল উৎপাদন সমন্বয় করাই ছিল এই জোটের মূল লক্ষ্য।
বিগত বছরগুলোতে এই জোটের সদস্য সংখ্যা বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা পাঁচ সদস্য ছাড়াও বর্তমানে এই জোটে আলজেরিয়া, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, গ্যাবন, লিবিয়া, নাইজেরিয়া এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।