যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে ঝুঁকিতে পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) যৌথভাবে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
শুক্রবার (২৯ মে) সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। সামনে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল শুরু হতে যাওয়ায় জ্বালানির চাহিদা আরও বাড়বে। এই সময়ের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা যত চড়ছে, পরিস্থিতি ততই জটিল রূপ নিচ্ছে। ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণ পণ্য ও তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধের উপক্রম।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০% এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও তার প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ে বিশ্ববাজারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের প্রভাব শুধু তেলের দাম বাড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। যুদ্ধের প্রভাবে ইতোমধ্যে সারের বাজারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে, যা দরিদ্র দেশগুলোর কৃষি খাতের জন্য বড় হুমকি।
সামনেই অনেক দেশে চাষাবাদের মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে; এই সময়ে সারের ঘাটতি বা চড়া দাম খাদ্য উৎপাদনকে ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ।
আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিসটালিনা জর্জিয়েভা জানান, চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ইতোমধ্যে কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছেন তারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রায় ২০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।
এএফপির প্রতিবেদন সূত্রে আরও জানা গেছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশও ইতোমধ্যে আইএমএফের সাথে একটি আর্থিক সহায়তার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘায়িত সংঘাত তেল, গ্যাস, সার ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে এক চরম অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।



