মিয়ানমারের মান্দালয় অঞ্চলের মোগোক উপত্যকায় পাওয়া গেছে ১১,০০০ ক্যারেটের বিশালাকৃতির একটি রুবি। এটি দেশের অন্যতম বৃহত্তম রত্নপাথর হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
শুক্রবার (৮ মে) রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার এর একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এ প্রতিবেদনে বলে হয়েছে, ১১,০০০ ক্যারেটের এই রুবি পাথরটির ওজন প্রায় ২.২ কেজি বা ৪.৮ পাউন্ড। নতুন এই রুবিটি এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে পাওয়া যায়।
রুবিটির রং বেগুনি লাল এবং এতে সামান্য হলদে আভা রয়েছে। রঙের গুণমানের দিক থেকে এটি উচ্চমানের রত্ন হিসেবে স্বীকৃত। ফলে এর আর্থিক মূল্য বেশি হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এবিসি নিউজ জানায়, এর আগে ১৯৯৬ সালে মিয়ানমারে ২১,৪৫০ ক্যারেটের একটি রুবি পাওয়া গিয়েছিল। সেটি ছিল এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় রুবি, যার ওজন ছিল প্রায় ৪.২৯ কেজি বা ৯.৪৫ পাউন্ড।
উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ৯০% রুবি মিয়ানমারে উৎপাদিত হয়। এর প্রধান উৎস মোগোক ও মং সু এলাকা। এসব রত্ন বৈধ ও অবৈধ - দুই পথেই বাণিজ্য হয় এবং এটি দেশটির অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মোগোক উপত্যকার রুবিগুলো রত্নবাজারে সবচেয়ে দামি। যুগে যুগে এ উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নিতে রক্তক্ষয়ী লড়াই করেছেন। কারণ কোনো এসব খনির অনেক সময় আন্তর্জাতিক বাজারে কোটি ডলারে বিক্রি হয়।
রত্ন খনি থেকে পাওয়া আয় বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর অর্থের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে কয়েক দশক ধরে দেশটিতে সহিংসতা চলমান রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো অস্থিতিশীল হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মোগোক শহর এবং খনিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ)। তবে গত বছরের শেষ দিকে চীনের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে এসব খনির নিয়ন্ত্রণ আবার মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।