যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান থেকে বিরত রাখতে দেশটির কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ বা প্রতিনিধি পরিষদ একটি প্রস্তাব পাস করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানায়।
বুধবার (৩ জুন) চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সমর্থন দেওয়ার পর ২১৫ ভোট পেয়ে নতুন বিলটি পাস হয়। অন্যদিকে, বিলের বিপক্ষে ভোট পড়ে ২০৮টি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষমতা কমানোর জন্য হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে এটি চতুর্থ প্রচেষ্টা।
তবে, বিল পাস হলেও সেটি বাস্তবায়ন করতে হলে এখনও সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তবে সিনেট বর্তমানে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সবমিলিয়ে বিলটি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে কিনা, সেটি নিশ্চিত বলা যাচ্ছ না।
ট্রাম্প এই বিলটিতে ভেটো দিতে পারেন, যা বাতিল করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হবে।
হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের যে চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে জোট বাঁধেন, তারা হলেন - টমাস ম্যাসি, ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, টম ব্যারেট এবং ওয়ারেন ডেভিডসন।
এছাড়া মেইনের ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যারেড গোল্ডেন, যিনি এর আগে এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, তিনি এবার যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। নিম্নকক্ষের অনেক সদস্য যুদ্ধে জড়ানোর বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে বক্তব্যও দিয়েছেন।
ক্ষমতাসীন দলের নেতা হয়েও বিপক্ষে ভোট দিয়ে তিনি ট্রাম্পের চক্ষুশূল হলেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মিশিগানের রিপাবলিকান সদস্য ব্যারেট বলেন, “আমার বিবেক যা বলেছে, আমি সে অনুযায়ী ভোট দিয়েছি। আমি এটি ঠিক বলে মনে করি এবং সেজন্য এর দায়ভার নিতেও প্রস্তুত আছি।”
বুধবারের এই ভোটাভুটিতে যা দেখা গেছে, সেটি ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির ভেতরের মতবিরোধকে আবারও সামনে এনেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির প্রধান ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরানে চালানো অবৈধ ও ব্যয়বহুল যুদ্ধের বিরুদ্ধে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ট্রাম্প যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ তো হয়েছেনই, উপরন্তু বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছেন।”
ডেমোক্র্যাট এই নেতা বলেন, “এই প্রস্তাবটি পাস হওয়ার বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণের ইঙ্গিত দেয়। আরও অধিক সংখ্যক রিপাবলিকান তাদের ভোটারদের কথা শুনছেন, যারা মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধ চান না।"
নিজ দলের সদস্যরা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় মাত্র কয়েকদিন আগে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের রাজনৈতিক মিত্রদের জন্য এক দশমিক আট বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্রবিরোধী তহবিল গঠনের পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়।