প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করেছে ভারত

ভারতের পারমাণবিক নীতি ও রণকৌশলে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দেশটি প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড সরাসরি মোতায়েন বা অপারেশনাল করেছে। স্টকহোমভিত্তিক আন্তর্জাতিক অস্ত্র পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা সংস্থা ‘সিপরি’-এর সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দাবি করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) প্রকাশিত সিপরির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতদিন ধরে শান্তিকালীন সময়ে ভারত তাদের পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সেগুলোর বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র বা ডেলিভারি সিস্টেম সম্পূর্ণ আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতো। তবে এবারই প্রথম ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের একটি অংশকে ‘মোতায়েনকৃত’ বা তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, যা আগে কেবল মজুত অবস্থায় ছিল।

সিপরির ভাষ্য অনুযায়ী, ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং আধুনিক পারমাণবিক সাবমেরিনে দ্রুত ব্যবহারের উপযোগী করে এই ১২টি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, ভারত প্রথমবারের মতো কিছু পারমাণবিক ওয়ারহেডকে সরাসরি তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করেছে অথবা সেগুলোকে সরাসরি অপারেশনাল বাহিনীর ঘাঁটিতে স্থাপন করেছে, যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে অত্যন্ত দ্রুত আঘাত হানা সম্ভব হয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের মোট পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯০টিতে, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। এই অস্ত্রগুলো বিমান, স্থলভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক সাবমেরিন নিয়ে গঠিত ভারতের ক্রমবর্ধমান ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ বা ত্রিমাত্রিক পারমাণবিক শক্তির অংশ।

প্রস্তুতির মাত্রা বাড়ালেও ভারত এখনো তার ঘোষিত ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ বা ‘প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার’ মৌলিক নীতিতে অটল রয়েছে। এই নীতি অনুযায়ী, ভারতের মূল ভূখণ্ড বা বিশ্বের যেকোনো স্থানে অবস্থানরত ফোর্সের ওপর অন্য কোনো দেশ আগে পারমাণবিক হামলা না করলে, ভারত নিজে থেকে কাউকে প্রথম আঘাত করবে না। তবে আক্রান্ত হলে দেশটি অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক পাল্টা পারমাণবিক আঘাত হানবে।

নয়া দিল্লি বরাবরই আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাবি করে আসছে যে, তাদের পারমাণবিক সক্ষমতার মূল উদ্দেশ্য কোনো দেশের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়ানো নয়; বরং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে (বিশেষ করে চীন ও পাকিস্তান) যেকোনো ধরনের আগ্রাসন থেকে নিরুৎসাহিত করার জন্য একটি ন্যূনতম কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখা। তবে সিপরির এই নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ পাওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ও সামরিক ভারসাম্যে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে।