যুক্তরাজ্যে স্টারমারের ভাগ্য নির্ধারণী নির্বাচন

ব্রিটেনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় নির্বাচন। এর ফলাফল লেবার পার্টির নেতা কেয়ার স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আবার এটি তাকে সাময়িক স্বস্তিও এনে দিতে পারে। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রাত ১০টায় ভোট শেষ হওয়ার পর গণনা শুরু হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবার পার্টির প্রবীণ নেতা ও গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এই নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে লড়ছেন। জয়ী হলে তিনি সংসদে ফিরে স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করবেন।

জনমত জরিপে মেকারফিল্ড আসনের এই ঐতিহাসিক এই নির্বাচনে বার্নহ্যামের জয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে তাকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে কট্টর ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে পার্টির সঙ্গে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জন কার্টিস বলেন, “বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হবেন কিনা, তা প্রায় নিশ্চিতভাবেই এখন মেকারফিল্ডের ভোটারদের হাতে।”

তিনি এএফপিকে বলেন, “বার্নহ্যাম জিতলে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছানোর পথ তার জন্য অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাবে। আর ভোটাররা যদি তাকে সেই সুযোগ না দেন, তাহলে আপাতত স্টারমার টিকে যেতে পারেন।”

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতা আসা স্টারমার গত মাসে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় পরাজয়ের পর থেকেই কঠিন চাপে আছেন।

নীতিগত বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা এবং জেফরি এপস্টেইনের সহযোগী পিটার ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কও তাকে বিব্রত করেছে।

৬৩ বছর বয়সী এই প্রধানমন্ত্রীকে একাধিক মন্ত্রীর পদত্যাগের মুখে পড়তে হয়েছে। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার জরিপেও তার অবস্থান তলানিতে নেমেছে।

তবে স্টারমার পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তার দাবি, ২১ মাস আগে কনজারভেটিভদের বিরুদ্ধে পাওয়া বিপুল নির্বাচনী জয় তাকে পাঁচ বছরের জন্য শাসনের গণরায় দিয়েছে।

অন্যদিকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় জরিপে এগিয়ে রয়েছে রিফর্ম ইউকে।