প্রায় দুই বছরেরও কম সময় ক্ষমতায় থাকার পর, সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার। নীতিগত অবস্থান থেকে একাধিকবার সরে আসা ও জনসমর্থনে বড় ধরনের পতনের মধ্যেই তার এ সিদ্ধান্ত এলো।
স্টারমারের পদত্যাগের ফলে এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে ব্রিটেন।
লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে আবেগঘন ভাষণে স্টারমার বলেন, ‘আমি যে সিদ্ধান্তই নিয়েছি, সবই ছিল আমার প্রিয় দেশকে সবার আগে রাখার জন্য। সে কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তিনি জানান, মধ্য-বামপন্থী লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া জুলাইয়ে শুরু হবে। উত্তরসূরি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন।
গ্রীষ্মকালীন বিরতির পর, সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট অধিবেশনে ফেরার আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব নেবেন।
স্টারমারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অভিজ্ঞ রাজনীতিক অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপনির্বাচনে জয় পাওয়ার পর, সোমবার বার্নহ্যামের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এর মধ্য দিয়ে পার্লামেন্টে তার প্রত্যাবর্তন ঘটছে এবং দলীয় নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেওয়ার পথও পরিষ্কার হচ্ছে।
স্টারমার বলেন, ‘নেতৃত্ব নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকব। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
সপ্তাহের শেষ পর্যন্তও তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকার ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে অনড় ছিলেন।
দলীয় চ্যালেঞ্জ ও পদত্যাগের দাবির মুখেও তিনি দীর্ঘদিন সেই অবস্থান ধরে রাখেন।
তবে একের পর এক কেলেঙ্কারি এবং উচ্চপর্যায়ের পদত্যাগের ঘটনায় তার ও লেবার পার্টির ওপর চাপ ক্রমেই বেড়ে যায়।
তার বহুল প্রত্যাশিত এই ঘোষণাটি এসেছে ব্রেক্সিট গণভোটের দশম বার্ষিকীর ঠিক একদিন আগে।
ওই গণভোটের ফলেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হয় এবং দেশটিতে প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের নজিরবিহীন ধারা শুরু হয়।
স্টারমারের নেতৃত্বে ২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার বড় জয় পেয়ে ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের অবসান ঘটায়।