ভেনেজুয়েলায় দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণ কী ছিল?

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২ এবং দ্বিতীয়টির মাত্রা ছিল ৭.৫।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ বলেন, “এ পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি এবং ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।” 

রদ্রিগেজ আরও জানান, মূল ভূমিকম্প দুটির পর অন্তত ২০টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ৭.২ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ক্যারিবীয় উপকূলীয় শহর মোরনের পশ্চিমাঞ্চলে।

ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ২২ কিলোমিটার। অন্যদিকে দ্বিতীয় কম্পনটির কেন্দ্র ছিল মোরন শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।

ভূমিকম্পের কারণ কী?

ভেনেজুয়েলা একটি ভূমিকম্প-প্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান - এই দুটি টেকটোনিক প্লেট বা ভূ-গাঠনিক পাতের সংযোগস্থল রয়েছে।

ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, দুটি ভূমিকম্পের মধ্যে দ্বিতীয় এবং অধিক শক্তিশালীটি এই পাতগুলোর সীমানার কাছাকাছি শ্যালো স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্টিংয়ের (অগভীর চ্যুতি) ফলে সৃষ্টি হয়। পাতগুলোর মধ্যবর্তী ফাটল বা চ্যুতি যখন আনুভূমিকভাবে সরে যায়, তখনই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। আর এই সরে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি হঠাৎ দ্রুতগতিতে ঘটলে ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

দুই প্লেটের অবস্থান

এই মাত্রার কম্পনগুলো আসলে একটি বিশাল চ্যুতি এলাকা জুড়ে হওয়া ভূ-বিচ্যুতির ফল। সংস্থাটির মতে, আজকের এই জোড়া ভূমিকম্প সম্ভবত ভূ-অভ্যন্তরের ফাটলগুলোর মধ্যে কোনো জটিল পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ারই বহিঃপ্রকাশ।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলছে, শক্তিশালী ঝাঁকুনিসহ আরও ‘আফটারশক’ অনুভূত হওয়ার শঙ্কা এখনো রয়ে গেছে।

এর আগে, ভূমিকম্পপ্রবণ ভেনেজুয়েলার ১৯৯৭ সালে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে ৭৩ জন এবং ১৯৬৭ সালে কারাকাসে ভূমিকম্পে ২৩৬ জন নিহত হয়েছিলেন। 

ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বহু পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী সংকটের কারণে দেশ ছেড়ে যাওয়া ৭৭ লাখের বেশি ভেনেজুয়েলান তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।