মাত্র একদিনের ব্যবধানে নিজের সিদ্ধান্তে থেকে সরে আসলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের জাহাজের ওপর ২০% শুল্কারোপ করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলছে, যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের সাথে “বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি” করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
এদিকে, এতো অল্প সময়ের ব্যবধানে তার এ ধরনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনকে মোটেও স্বাভাবিক চোখে দেখছেন না বিশ্লেষকরা।
মূলত, চার মাসেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মাসখানেক আগে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সইও করে তারা। এরমাধ্যমে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি দু'পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনার পথ তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু গত জুনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে শুল্ক দেওয়ার একটি পরিকল্পনা যখন ইরানের দিক থেকে এসেছিল, তখন বিষয়টি নিয়ে নিন্দা জানাতে দেখা গিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে। এরপর দফায় দফায় আলোচনা হলেও যুদ্ধ অবসানের কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না।
কারণ, ইরান এখন আর কোনো কিছুই মানার মতো অবস্থায় নেই। সামরিকভাবে ইরানের জাহাজ, বিমান এবং স্থাপনা ধ্বংস করার মতো কিছু লক্ষ্য পূরণে সফলতা পেলেও রাজনৈতিকভাবে সংঘাতটি নিরসন প্রশ্নে এখনও অনেক দূরে রয়েছে। ফলে সামরিকভাবে কিছুটা দুর্বল করা গেলেও ইরান এখনও হরমুজ প্রণালিতে তার আধিপত্য বজায় রেখেছে।
এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের সামরিক অভিযান ব্যাপকভাবে ওই অঞ্চলে না বাড়ায়, তাহলে তারা ইরানিদের সেভাবে দমাতেও সক্ষম হবে না।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প সম্ভবত চান এবারের সমাধানটি যেন ২০১৫ সালে বারাক ওবামার প্রশাসনের করা চুক্তির চেয়ে “ভালো কিছু” দাবি করা যায়। আর এ কারণেই এই সংকট থেকে বের হওয়ার জন্য তিনি অপ্রচলিত একটি উপায় খুঁজছেন। এজন্যই নিজে শুল্পারোপের সিদ্ধান্ত জানিয়ে সেখান থেকে আবার সরেও আসলেন।
অর্থাৎ একটি বিষয় স্পষ্ট যে, যুদ্ধ শেষ করার প্রশ্নে সামনে এগোনোর জন্য কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে।
এ অবস্থায় ট্রাম্পকে দু'টি বিকল্পের মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে। সেগুলো একটি হলো ইরানে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়ে হয় পরিস্থিতি আরও খারাপ করা, তবে এতে দেশটির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে।
আর দ্বিতীয় বিকল্পটি হচ্ছে ইরানের পক্ষে যায় এমন কোনো সমাধানে রাজি হওয়া।