কলকাতা বিমানবন্দর মসজিদে নামাজ বন্ধের প্রতিবাদ, ১৬৩ ধারা জারি

কলকাতা বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে গৌরীপুর জামে মসজিদ (বাঁকড়া মসজিদ) ইস্যুতে ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচি পুলিশি নিরাপত্তা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে বাস্তবায়িত হয়নি। শুক্রবার সকাল থেকেই বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। একই সঙ্গে ভারতীয় ন্যায় সংহীতার ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি করে চারজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়।

মসজিদে নামাজ বন্ধের প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেটে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও কালো ব্যাজ পরে নামাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে পুলিশের কড়া অবস্থানের কারণে সেখানে কোনো বড় ধরনের জমায়েত হয়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী জানান, ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদে নামাজ বন্ধ করা অন্যায়। তিনি দাবি করেন, কর্তৃপক্ষ চাইলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে পারত। তার অভিযোগ, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কিংবা সংশ্লিষ্ট থানাগুলো তাদের সঙ্গে আলোচনা করেনি এবং অভিযোগও গ্রহণ করেনি।

তিনি আরও বলেন, তারা কোনো সংঘাত চান না। মুসল্লিদের শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায়ের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনুমতি না মিললেও তারা আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।

অন্যদিকে, দমদম উত্তরের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদার বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও সম্প্রসারণের স্বার্থে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। তার দাবি, ধর্মীয় আবেগ উসকে দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আইন ভঙ্গের চেষ্টা হলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজন হলে ধর্মীয় স্থাপনা যেকোনোটিই সরানো হতে পারে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রাখতে মসজিদটি স্থানান্তর করা প্রয়োজন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, মসজিদটি রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত, যেখানে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিধিমালা অনুযায়ী ন্যূনতম দূরত্ব হওয়া উচিত ২৪০ মিটার। পাশাপাশি বৈধ বিমানবন্দর পাস ছাড়াই মুসল্লিদের রানওয়ের কাছাকাছি প্রবেশ নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মসজিদ স্থানান্তর ও নামাজ বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘিরে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে শুক্রবার কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।