ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ একাধিক দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলন রুখতে পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়লে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। রাজপথে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) এই গণবিক্ষোভ ২০২১ সালের সেই আলোচিত লালকেল্লার নিরাপত্তার ওপর হামলার স্মৃতি উসকে দিয়েছে।
নিরাপত্তা সংস্থা ও দিল্লি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের মারাত্মক ব্যর্থতাকেই এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা হচ্ছে। তিন হাজার মানুষের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন যন্তর মন্তরে রবিবার সন্ধ্যাতেই প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। গোয়েন্দা পুলিশ সোমবার সকালে ৭ থেকে ৮ হাজার বিক্ষোভকারীর আগমনের অনুমান করলেও প্রকৃতপক্ষে নয়াদিল্লির বিভিন্ন প্রান্ত মিলিয়ে আন্দোলনকারীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়।
সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ)-এর সূত্র জানায়, মাত্র পাঁচ হাজার মানুষের ধারণার ওপর ভিত্তি করে পুলিশ প্রায় ২ হাজার কর্মী এবং প্যরামিলিটারির ৩২টি কোম্পানি মোতায়েন করেছিল। তবে ধারণার চেয়ে বহুগুণ বেশি মানুষ রাস্তায় নেমে আসায় নিরাপত্তা ব্যূহ মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে।
প্রথমে ঢিমেতালে চললেও গত ১৮ জুলাই পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে সফদারজং হাসপাতালে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার সংসদ ভবনে বর্ষাকালীন অধিবেশন চলার সময় সিজেপির হাজার হাজার সমর্থক ব্যারিকেড ভেঙে সংসদ ভবনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জরুরি বার্তা পাঠিয়ে ১৪টি প্রশাসনিক এলাকা থেকে অতিরিক্ত বল তলব করা হয় এবং দুজন যুগ্ম কমিশনারকে পরিস্থিতি সামাল দিতে পাঠানো হয়। তবে নয়াদিল্লির উপপুলিশ কমিশনার শচীন শর্মার সাথে আয়োজকদের তিন দফার বৈঠক ব্যর্থ হলে সংঘাত চরম আকার ধারণ করে।
সংসদ ভবনমুখী মিছিলটি ঠেকাতে পুলিশ যন্তর মন্তর, পার্লামেন্ট স্ট্রিট, রাইসিনা রোড ও ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডে বহুস্তরের ব্যারিকেড দেয়। কিন্তু জনস্রোত আটকাতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়তে ও লাঠিচার্জ শুরু করতে বাধ্য হয়।
বিক্ষোভকারীরা সংগঠিত হয়ে পুলিশের দিকে জুতা, পানির বোতল, পাথর ও গাছের ডালপালা ছুড়তে থাকে। নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করলে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকজন হতাহত হন।
আয়োজকেরা মাইকে বারবার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের আবেদন জানালেও পুলিশের বলপ্রয়োগ এবং বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের কারণে সোমবার পুরো নয়াদিল্লি থমথমে ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে।