স্বাদ বাড়াতে শরবতে কালো পিঁপড়া ব্যবহার করার অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ‘মিশেলিন’ তারকাপ্রাপ্ত রেস্তোরাঁর মালিকের এক বছরের কারাদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০ জুলাই আদালতের শুনানিতে পরিচয় প্রকাশ না করা ওই রেস্তোরাঁ মালিকের বিরুদ্ধে খাদ্য নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এই সাজা চাওয়া হয়। রেস্তোরাঁটির নামও প্রকাশ করা হয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইনে মানুষের খাবার হিসেবে ব্যবহারের জন্য মাত্র ১০ ধরনের পোকামাকড় অনুমোদিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঘাসফড়িং ও বাদামি মেলওয়ার্মের লার্ভা।
তবে দুইটি মিশেলিন তারকাপ্রাপ্ত ওই রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা অনুমোদনহীন পিঁপড়া খাবার হিসেবে পরিবেশনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই পিঁপড়াগুলো শরবতের ওপর সাজিয়ে পরিবেশন করা হয়েছিল।
দেশটির খাদ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত বছর থেকে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, শেফ শরবতের ওপর ‘টক স্বাদ যোগ করার জন্য’ তিন থেকে পাঁচটি করে পিঁপড়া ছড়িয়ে দিতেন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় চার বছর ধরে এভাবে খাবার বিক্রি করে রেস্তোরাঁটি প্রায় ১২ কোটি ওন (প্রায় ৮১ হাজার মার্কিন ডলার) আয় করেছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা একটি ছবিতে গোলাকার টিনের একটি কৌটা দেখা যায়, যার গায়ে লেখা ছিল ‘কুইজিন ব্ল্যাক অ্যান্টস’।
স্থানীয় সংবাদ সংস্থা নিউজিস জানিয়েছে, কারাদণ্ডের পাশাপাশি সিউলের পশ্চিম জেলা আদালতের কাছে ২ কোটি ওন জরিমানার আবেদনও করেছে প্রসিকিউশন।
অভিযুক্তের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, পিঁপড়া দেওয়া খাবারগুলো শুধুমাত্র সেইসব গ্রাহককে পরিবেশন করা হয়েছিল, যারা আগে থেকেই সম্মতি দিয়েছিলেন।
অভিযুক্ত আদালতে বলেন, “নিয়ম পুরোপুরি না বোঝার কারণে যে ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।”
আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতে আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে।