কলকাতার ধর্মতলায় নিট পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। শুক্রবার রাতে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত সাংবাদিকদের দেখতে গিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চরম কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে পৌঁছান। সেখানে প্রায় আধঘণ্টা অবস্থান করে তিনি চিকিৎসাধীন সাংবাদিকদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের চিকিৎসার বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।
হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় বলেন, “কটা দিন অপেক্ষা করুন, ওদের কী করতে হয়, তা আমি জানি। এই 'শুক্রবারি'দের আমি দেখে নেব।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চরম আলোচনা ও তরজা শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতাল ত্যাগ করার কিছুক্ষণ পরেই আহতদের দেখতে সেখানে পৌঁছান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “এটা কোনো সাধারণ ছাত্র আন্দোলনের রূপ হতে পারে না। এটি চরম স্বৈরাচার। সংবাদমাধ্যমের কাছে থাকা ভিডিওগুলোতে প্রতিবাদীদের যে ভাষা ও তাণ্ডব দেখেছি, তাতে আমি স্তম্ভিত। এটি ছাত্রদের আন্দোলন বলে কোনোভাবেই মনে হয় না।”
উল্লেখ্য, নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে শুক্রবার ধর্মতলায় বাম ছাত্র সংগঠনের ডাকা একটি মিছিলকে ঘিরে দিনভর দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। একপর্যায়ে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একদল উগ্র আন্দোলনকারীর হাতে গুরুতর হামলার শিকার হন বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী।
তবে মিছিলের অন্যতম উদ্যোক্তা দেদীপ্ত গঙ্গোপাধ্যায় এই হামলার দায় অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যারা ঝামেলা বা অশান্তি সৃষ্টি করতে চান, তাদের আমাদের এই আন্দোলনে আসার কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা এই গুন্ডামি ও সহিংসতা সমর্থন করি না। আমরা আমাদের সুনির্দিষ্ট দাবি নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
সাংবাদিকদের ওপর হামলার এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় ওঠা ভিডিও ফুটেজ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রশাসন জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন হামলাকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে