সব দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস, আন্দোলন প্রত্যাহার

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা 'নিট' -এর প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি ও ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে ভারতজুড়ে চলা অভূতপূর্ব আন্দোলনের অবসান ঘটেছে। আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত প্রধান চারটি দাবির প্রায় সবই মেনে নেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্র সরকার আশ্বাস প্রদান করায় টানা আন্দোলন ও রাজপথ অবরোধ প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)।

শনিবারের (২৫ জুলাই) ভারতীয় দৈনিক ‘দ্য হিন্দু’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সন্ধ্যায় দিল্লিতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস আন্দোলন প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) নিজেদের ভেরিফায়েড হ্যান্ডেলেও আন্দোলন স্থগিতের বার্তা ঘোষণা করে দলটি।

সিজেপির উত্থাপিত মূল চারটি দাবি ছিল, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে মানসিক চাপে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হওয়া র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) ও দিল্লি পুলিশের ক্ষমা প্রার্থনা এবং বিক্ষোভকারী ও আয়োজকদের কারো বিরুদ্ধে কোনো আইনি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া।

এর আগে আজ দুপুরে চরম জনরোষের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের ঘোষণা দেন। যদিও প্রথমার্ধে বাকি দাবিগুলোর বিষয়ে স্পষ্টতা না থাকায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে।

পরবর্তীতে ভারত সরকারের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডার উপস্থিতিতে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, "সারাদেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশ যেসব এফআইআর ও মামলা করেছিল, তার সবই প্রত্যাহার করা হবে। ভবিষ্যতে কোনো আয়োজক বা আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না মর্মে সরকারের কাছে যে নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছিল, মঙ্গলবার সরকার তা লিখিতভাবে জমা দেবে বলে জানিয়েছে। এছাড়া আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতেও রাজি হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।"

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা বলেন, "শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক ও গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো নিয়ে আমরা দীর্ঘ ও বিস্তারিত আলোচনা করেছি। পরীক্ষা ব্যবস্থার মূলগত সংস্কার ও আধুনিকায়ন নিয়ে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে চতুর্থ দফার যৌথ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।"

শিক্ষামন্ত্রীর বিদায় ও সরকারের কাছ থেকে লিখিত ও ইতিবাচক আশ্বাস আসায় শেষ পর্যন্ত স্বস্তির বার্তা নিয়ে ঘরে ফিরছেন আন্দোলনরত হাজার হাজার শিক্ষার্থী।