নিজের মৃত্যুর আশংকা নিয়ে সাংবাদিকদের যা বললেন ট্রাম্প

ইরানের পক্ষ থেকে হত্যাচেষ্টার আশঙ্কায় ন্যাটো সম্মেলন থেকে ফেরার পথে গোপনে উড়োজাহাজ বদল করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত মাসে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় ট্রাম্প প্রথমে তার জন্য নির্ধারিত সরকারি উড়োজাহাজে ওঠেন। পরে নিরাপত্তাজনিত কারণে গোপনে সেখান থেকে নেমে বিকল্প একটি উড়োজাহাজে করে দেশে ফেরেন তিনি।

বিষয়টি এতটাই গোপন রাখা হয়েছিল যে, ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা গণমাধ্যমকর্মী এবং হোয়াইট হাউসের অধিকাংশ কর্মীকেও এ বিষয়ে জানানো হয়নি। তারা আগের নির্ধারিত এয়ারফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজেই দেশে ফেরেন। ফলে প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের কথা ধরে নেওয়া ওই উড়োজাহাজটি কার্যত একটি ‘ডিকয়’ বা বিভ্রান্তিমূলক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরো বিষয়টি ছিল পূর্বপরিকল্পিত নিরাপত্তা কৌশলের অংশ। ট্রাম্পকে প্রথমে তার নির্ধারিত উড়োজাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ক্যাটারিংয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাকের আড়ালে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং বিকল্প উড়োজাহাজে তুলে দেওয়া হয়।

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা শুরুর পরদিন এবিসি নিউজের সাংবাদিক জোনাথন কার্লের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘সে আমাকে আঘাত করার আগেই আমি তাকে আঘাত করেছি। তারা দুবার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমি আগে তাকে আঘাত করেছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ও সমন্বয়ে পরিচালিত ওই সামরিক অভিযানের প্রথম দিনেই ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। একই দিনে ইরানের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।

ওই সময় ট্রাম্প ইরানের পক্ষ থেকে তাকে দেওয়া বিভিন্ন হুমকি এবং কথিত হত্যাচেষ্টার সঙ্গে সামরিক অভিযানের সরাসরি সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছিলেন।

যুদ্ধ শুরুর পর গত প্রায় পাঁচ মাসে ট্রাম্পকে এ ধরনের মন্তব্য খুব বেশি করতে দেখা না গেলেও তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একই ধরনের দাবি করেছেন। গত মার্চে হেগসেথ বলেছিলেন, ইরান ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পই জয়ী হয়েছেন।

ইসরায়েলপন্থী হিসেবে পরিচিত হেগসেথ আরও দাবি করেছিলেন, ট্রাম্পকে হত্যার লক্ষ্যে গঠিত একটি দলের নেতৃত্বে থাকা এক অজ্ঞাতনামা ইরানি ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন।

ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের এসব বক্তব্য এবং সাম্প্রতিক উড়োজাহাজ বদলের ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরানকে এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ব্যক্তিগত মাত্রার বিষয়টিও এতে নতুন করে সামনে এসেছে।