ন্যাটো সম্মেলন শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুরস্ক থেকে দেশে ফেরার সময় এয়ারফোর্স ওয়ানে সম্ভাব্য ইরানি হামলার আশঙ্কা ঘিরে যে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার পেছনে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের ভূমিকা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তুরস্কের কর্মকর্তারা।
তুর্কি কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনাকে দুর্বল করে দিতে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা পরিকল্পিতভাবে ওই পরিস্থিতি তৈরি করে থাকতে পারেন।
৮ জুলাই স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে সাংবাদিকেরা জানতে পারেন, ট্রাম্পের এয়ারফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজটি আঙ্কারা বিমানবন্দরে অবস্থান করলেও সেখানে তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনীর অস্বাভাবিকসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে ৭ ও ৮ জুলাই আঙ্কারা ছিল কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত। শহরের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়, ফুটপাতে চলাচলও সীমিত করা হয়েছিল। সরকারি কর্মীদের এক সপ্তাহের প্রশাসনিক ছুটি দেওয়া হয়। ফলে সম্মেলনের সময় আঙ্কারা অনেকটাই জনশূন্য হয়ে পড়ে।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া রাষ্ট্রপ্রধানদের দ্রুত নিরাপদে ভেন্যুতে পৌঁছে দিতে তুরস্কের এতিমেসগুত বিমানঘাঁটিও বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। বিমানঘাঁটিটি আনুষ্ঠানিকভাবে আঙ্কারা বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত।
এমন কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেই মার্কিন কর্মকর্তারা তুর্কি কর্মকর্তাদের জানান, তারা ইসরায়েলের কাছ থেকে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন পেয়েছেন। ওই প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
এই গোয়েন্দা তথ্যের পরই ট্রাম্পের দেশে ফেরা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। নিরাপত্তার কারণে তাকে নির্ধারিত এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে গোপনে সরিয়ে বিকল্প উড়োজাহাজে নেওয়া হয়েছিল বলে এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে।
তুর্কি কর্মকর্তাদের সন্দেহ, ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের দেওয়া ওই তথ্য এবং পরবর্তী নিরাপত্তা তৎপরতা নিছক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ ছিল না। বরং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনাকে প্রভাবিত করতেই পরিকল্পিতভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের কথা জানা যায়নি। ফলে তুর্কি কর্মকর্তাদের এই সন্দেহ এখনো নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।