দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকা সত্ত্বেও দেশে ফিরেছেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা। বিদেশে দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে প্রায় ছয় মাস পর বৃহস্পতিবার তিনি স্বদেশে ফেরেন।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরমুখী সড়কে শত শত সমর্থক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানান। এ সময় নেপালি কংগ্রেসের এই বর্ষীয়ান নেতা হাসিমুখে হাত নেড়ে কর্মীদের অভিবাদনের জবাব দেন।
অর্থ পাচারের অভিযোগে গত এপ্রিলে দেউবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে নেপাল পুলিশ। জেন-জি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকার পতনের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ক্ষমতায় আসার পর দেশের অন্যতম হেভিওয়েট এই রাজনীতিককে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে নেপাল ছাড়েন ৮০ বছর বয়সী দেউবা। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পাঁচবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) থেকে শুরু হতে যাওয়া তার দলের তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।
দেউবার এক সমর্থক জানান, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী তাদের ও গোটা জাতির অভিভাবক। বিমানবন্দরে অপেক্ষার সময় তিনি বলেন, দেউবার দেওয়া স্বাধীনতা ও অধিকারের জন্য তারা কৃতজ্ঞ।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে জানান, দেউবার মামলা ও গ্রেপ্তার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অর্থপাচার তদন্ত বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত। সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিমানবন্দরে ও শোভাযাত্রায় তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
দেউবার স্ত্রী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবার বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারি রয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তরুণদের ভোটে বালেন্দ্র শাহর বিপুল জয়ের এক মাস পর এই পরোয়ানা জারি হয়।
ক্ষমতায় আসার পর শাহ প্রশাসন হেভিওয়েট রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে। ২০২৫ সালের বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার অভিযোগে গত মার্চে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও অল্প সময়ের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুরু হওয়া তরুণদের নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত নেপালের দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় আগুন দেয়, যার জেরে সরকারের পতন হয়। এসময় দেউবার বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয় এবং এই দম্পতির ওপর হামলার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে।
দেউবার বাসভবন থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থও উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে তদন্ত কমিশনের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এসব ভিডিওকে ভুয়া ও ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন, যদিও এর নেপথ্যে কারা জড়িত তা তিনি জানেন না বলে জানান। কমিশন দেউবার সম্পত্তি থেকে কথিত অর্থ উদ্ধার নিয়ে আরও তদন্তের সুপারিশ করেছে।
সূত্র: এএফপি