পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং ইমরান খানের সমঝোতার ইঙ্গিত?

কারামুক্তির পর পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সেনাবাহিনী কিংবা সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সংঘাতময় অবস্থানে যাবেন না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তার দল। একই সাথে পিটিআই সরকারের সাথে আলোচনা অর্থহীন মনে করে সরাসরি দেশের ‘প্রকৃত কর্তৃপক্ষ’ বা সেনাবাহিনীর সাথেই সংলাপে বসতে আগ্রহী।

সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পিটিআই মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি জানান, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং অতীত ভুলে সমঝোতার পথ বেছে নিতে রাজি ইমরান খান। বুখারি বলেন, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী কারামুক্ত হলে দেশের ক্ষতির কারণ হয় এমন কিছু করবেন না। সামরিক প্রধানের মুখোমুখি হওয়া কিংবা ব্যক্তিগত ক্ষোভ প্রকাশের চেয়ে দেশের মঙ্গলকেই তিনি প্রাধান্য দেবেন।

এই মন্তব্যকে সেনাবাহিনীর সাথে পিটিআইয়ের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক পুনর্গঠন ও টানাপোড়েন কমানোর সবথেকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। এ রূপান্তরের আবহ তৈরি হয়েছে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ের পর। উচ্চ আদালতের নির্দেশে আদিয়ালা কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। তিন বিচারকের বেঞ্চ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, একজন বন্দির জীবন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দী ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক জটিলতা, বিশেষ করে ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যায় ভুগছেন। সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর দীর্ঘদিন পর পরিবারের সদস্যদেরও তাঁর সাথে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এবং ২০২৩ সালের মে মাসে গ্রেপ্তারের ঘটনায় পিটিআই সমর্থকদের সেনাপ্রতিষ্ঠানে হামলার পর থেকে সামরিক বাহিনীর সাথে ইমরানের দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়। অতীতে ক্ষমা চাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করলেও এবং সামরিক নেতৃত্বকে তীব্র আক্রমণ করলেও, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইমরান খানের সমঝোতার সুর ও সামরিক বাহিনীর সাথে আলোচনার আগ্রহ পাকিস্তানের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।