ইরানে হিজাব বিতর্ক: সরকারের আইন মানতে নারাজ নারীরা 

ইরানে নারীদের বাধ্যতামূলক হিজাব পরা সংক্রান্ত সামাজিক বিতর্কটি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের চরম মুহূর্তে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের ছবিতে দেখা যায়- সরকারের সমর্থনে হওয়া মিছিলে হিজাবহীন নারীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। 

তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির সরকারের রক্ষণশীল নেতা, কট্টরপন্থী ও রাজনীতিকরা বাধ্যতামূলক হিজাব ফের কার্যকর করার জোর দাবি করেছেন। 

তেহরান প্রসিকিউটর অফিস এবং অন্যান্য প্রদেশের প্রশাসন থেকে কফি শপ, রেস্তোরাঁ ও পোশাকের দোকানে ‘নীতি বর্হিভূত কর্মকাণ্ডের’ বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। 

এই বাধ্যতামূলক নিয়ম অমান্য করার অপরাধে তেহরান ও দক্ষিণ খোরসানসহ বিভিন্ন শহরের একাধিক ক্যাফে, রেস্তোরাঁ ও বুটিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

এ ছাড়া জনপ্রিয় গায়িকা পরস্তু আহমাদী ও তার ব্যান্ড দলের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। 

তবুও, তরুণীরা এই আইন মানতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তেহরান ও সিরাজের মতো শহরগুলোতে হেলমেট পরিহিত কিন্তু হিজাবহীন তরুণীদের স্কুটার ও মোটরসাইকেল চালনার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। 

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ২০২৪ সালের শেষের দিকে এক বিবৃতিতে জানায়, কঠোর ও বাধ্যতামূলকভাবে পর্দা বা হিজাব পরার আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ও সহিংস দমন-পীড়নের মাধ্যমে ইরানি কর্তৃপক্ষ নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে এক ধরনের যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। 

তবে এই বিক্ষোভের সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল। বারবার সতর্কবার্তা ও মাঝে-মধ্যে আইন প্রয়োগের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করার প্রবণতা ব্যাপকভাবে রয়ে গেছে। বিশেষ করে তরুণ ইরানি নারীরা সরকারের কঠোর অবস্থানের মুখেও অনড় অবস্থানে রয়েছে।