নেপালে নিহত বেড়ে ৩৮৯, আবারো বন্যার শঙ্কা

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পর ৯১০ জন মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। 

কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে মৃতের সংখ্যা ৩৮৯ জনে পৌঁছানোর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

গত বুধবার সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে সীমান্তের দুই পাশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সীমান্তের উভয় পাশেই নিখোঁজদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশি পর্যটক বলে জানা গেছে।

নেপাল জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭৮ জন ভারতীয়, ১২৭ জন নেপালি, ৬৫ জন মার্কিন এবং ৩৩ জন যুক্তরাজ্যের নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া অনেক সেনা ও পুলিশ সদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন।

চীনের তিব্বত অংশে তিনজন নিহত এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকা বৃহস্পতিবার পরিদর্শন করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি নুয়াকোট জেলার বিদুর ও আশপাশের জনপদ ঘুরে দেখেন। এ সময় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য জানান তিনি।

বালেন্দ্র শাহ জানান, নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে নেপাল সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং জাতীয় পুলিশের ১৩ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দিনভর পরিচালিত ৬৯টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ৫৭৩ জনকে দুর্গত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অস্থায়ী ত্রাণশিবির স্থাপন করা হয়েছে। আহত নাগরিকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষের জীবন রক্ষা, নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করা।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, হিমবাহ ধস ও ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ থেকে আকস্মিক এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। নদীগুলোতে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে থাকায় এ ধরনের আরও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যার পানিতে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ গিরং স্থলবন্দর ও আশপাশের অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীন ও নেপালের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের প্রধান সীমান্ত পারাপার কেন্দ্রগুলোর একটি এই স্থলবন্দর। আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে স্থলবন্দরটি দৃশ্যত বিধ্বস্ত হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার তিব্বতের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। এর আগের দিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।

চীনা কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় আরেকটি সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক রয়েছে। একটি নদীর সংযোগস্থলের কাছে পানি আটকে সৃষ্ট হ্রদ বা জলাধার থেকে পরবর্তী সময়ে নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপালের বন্যাকবলিত এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া এবং ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, নেপালে উদ্ধার তৎপরতায় হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী ও জরুরি সেবা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এরই মধ্যে বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এবং অনেক এলাকা কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। 

নেপালের ত্রিশূলীসহ বিভিন্ন নদীর তীরবর্তী এলাকায় পানির তীব্র স্রোত ও কাদার কারণে অনেক স্থানে স্বাভাবিক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। দুর্গম ভূখণ্ড ও প্রতিকূল আবহাওয়াও নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধারকাজকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালি সেনাবাহিনী নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধারকাজে নানা ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের।