নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক। তবে নেপালে অবস্থানরত বাংলাদেশি পর্যটকেরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে কাঠমান্ডুর বাংলাদেশ দূতাবাস।
দূতাবাসের কাউন্সেলর শোয়েব আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, কাঠমান্ডু, পোখারা ও নাগরকোটসহ নেপালের প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখন পর্যন্ত বন্যা ও ভূমিধসে হতাহতদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশির তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, দুর্যোগের প্রধান প্রভাব পড়েছে কৈলাস ও মানস সরোবরের পথে। সাধারণত বাংলাদেশি পর্যটকেরা ওই পথে ভ্রমণ করেন না। নেপালের কর্তৃপক্ষ ও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দূতাবাস নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) তবে দুর্যোগের কারণে পোখারা থেকে কাঠমান্ডু যাওয়ার পথে কয়েকজন বাংলাদেশি পর্যটক সাময়িকভাবে আটকা পড়েন। পরে সড়ক খুলে দেওয়া হলে আজ সকালে তারা নিরাপদে কাঠমান্ডু পৌঁছান।
আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঘটনাটি ঘটে ত্রিশূলী নদীর উজানে। উজান থেকে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ পানি প্রায় ৪০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে পড়ে। এতে ওই এলাকার একটি মহাসড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার।
তবে কাঠমান্ডু-পোখারা মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। নদীর পানি বেড়ে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হলেও বর্তমানে সড়কটি পুরোপুরি উন্মুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশি পর্যটকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন শোয়েব আব্দুল্লাহ। তার ভাষ্য, কাঠমান্ডুতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং পোখারা-কাঠমান্ডু যাতায়াতও স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, কাঠমান্ডু, পোখারা ও নাগরকোটের মতো পর্যটন এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় বাংলাদেশি পর্যটকদের পূর্বনির্ধারিত ভ্রমণসূচি পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ দূতাবাস কোনো ট্রাভেল অ্যালার্ট বা ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেনি।



