Tuesday, July 14, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এবার বালেন্দ্র শাহের পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল নেপাল

এক বছর না যেতেই রাজপথে জেন-জিরা, এক দফা পদত্যাগ দাবিতে চরম উত্তেজনা

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:২২ পিএম

যে তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) আন্দোলনের ওপর ভর করে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, এক বছর পার না হতেই সেই তরুণদেরই তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েছেন নেপালের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। বস্তি উচ্ছেদ ও পুলিশের নির্মমতার প্রতিবাদে তার পদত্যাগের দাবিতে এখন রাজধানী কাঠমাণ্ডুসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দোলন দমনে সরকার কঠোর অবস্থানের পথ বেছে নেওয়ায় নেপালজুড়ে পরিস্থিতি এখন চরম উত্তপ্ত ও অস্থিতিশীল রূপ ধারণ করেছে।

গত এপ্রিল থেকে কাঠমাণ্ডুসহ নেপালের নানা প্রান্তে সরকার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি বস্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এতে ঘরছাড়া হন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ, যাদের সাময়িকভাবে নানা আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই দেওয়া হয়। কিন্তু গত ২ জুলাই নেপাল সরকার নির্দেশ দেয় যে, ৬ জুলাইয়ের মধ্যে সব আশ্রয়কেন্দ্র খালি করতে হবে। কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় ৬০টিরও বেশি পরিবার এই নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানায়।

এর মধ্যেই গত শুক্রবার কাঠমাণ্ডুর একটি আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যার পানি ঢুকে পড়লে ১৫০ জনকে নিরাপদে সরাতে কাজ শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। পরদিন শনিবার পরিস্থিতি দেখতে জেন-জিদের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশ তাদের ওপর নির্মম লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে এক আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হলে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

এর পাশাপাশি গত বৃহস্পতিবার কাঠমাণ্ডুর পাসপোর্ট অফিসের সামনে অ্যাপভিত্তিক বাইক চালক গণেশ নেপালিকে ১ হাজার রুপি জরিমানা করে মেট্রোপলিটন পুলিশ। অসংগতিপূর্ণ ও চড়া জরিমানা দিতে না পারার আকুতি জানালেও পুলিশ জোরজবরদস্তি করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্ষোভে-হতাশায় নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেন গণেশ। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো তরুণ সমাজকে রাজপথে নামিয়ে আনে।

গণেশ নেপালির করুণ পরিণতি ও আশ্রয়কেন্দ্রের সংঘর্ষের ঘটনায় নেপালের পার্লামেন্টে বালেন্দ্র শাহের সরকারের চরম সমালোচনা শুরু করেছে বিরোধী দল নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ও নেপালি কংগ্রেস। পরিস্থিতি সামলাতে সরকার পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও, রফাদফার বদলে উল্টো দমন-পীড়নের পথ ধরেছে প্রশাসন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, আন্দোলন দমন করতে ইতোমধ্যে একাধিক সমাজকর্মী, ছাত্রনেতা ও সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে রবিবার ‘যৌথ জাতীয় বস্তিবাসী ফ্রন্ট’-এর ব্যানারে বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী রাজপথে নেমে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাদের হাতে ‘গরিবের ওপর অত্যাচার বন্ধ করো’, ‘মানবাধিকার রক্ষা করো’, ‘বেআইনি গ্রেপ্তার চলবে না’ এবং ‘ভূমিহীনদের ঠাঁই দাও’ সম্বলিত নানা পোস্টার দেখা যায়।

উল্লেখ্য, গত বছর সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারের দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শুরু হওয়া জেন-জি আন্দোলনে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৭০ জনেরও বেশি মানুষ। তীব্র গণআন্দোলনের মুখে ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হলে চলতি বছরের ৫ মার্চ নেপালে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সেই নির্বাচনে ১৬৫টি আসনের মধ্যে ১২৫টিতে বিপুল জয় পায় ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহের নতুন রাজনৈতিক দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (আরএসপি)। তরুণদের বিপুল সমর্থন নিয়ে দেশের সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় বসেন পেশায় প্রকৌশলী ও র‍্যাপার বালেন্দ্র। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের মাথায় তার নেওয়া বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক দমননীতির কারণে সেই জেন-জি তরুণরাই আজ তার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছে।

   

About

Popular Links

x