Thursday, August 27, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যশোরে টাকা না পেয়ে দেনাদারের বাড়ির সামনে অনশন

দেনাদারের বাড়ির সামনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থান, সাউন্ড বক্সে বাজানো হয় পাওনার বিবরণ

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

চার বছর ধরে পাওনা টাকা ফেরত না পেয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন আল আমিন নামের এক পাওনাদার। পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে দেনাদারের বাড়ির সামনে ব্যানার-ফেস্টুন ঝুলিয়ে প্রতীকী অনশনে বসেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে যশোর শহরের আরএন রোড এলাকার ‘রওনক সানফ্লাওয়ার’ টাওয়ারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এসময় প্রতীকী অনশনের প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থানের সময় আল আমিনের পাশে বাজতে থাকে সাউন্ড বক্স। সেই বক্সে বাজতে থাকে রেকডিং করা ঘটনার বিবরণ। ভুক্তভোগীর এমন অভিনব প্রতিবাদ দেখে পথচারিসহ স্থানীয়দের উৎসুক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

অনশনকারী আল আমিন জানান, তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রবাসে থাকাকালে তার বিয়াই মিজানের মাধ্যমে জানতে পারেন, শাহরিয়ার পলাশ নামে এক ব্যক্তি একটি দোকান বিক্রি করবেন। কথা অনুযায়ী দোকানটি কেনার উদ্দেশ্যে চার বছর আগে মিজানের মাধ্যমে শাহরিয়ার পলাশকে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা দেন আল আমিন। টাকা পরিশোধের পর দোকানটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও পলাশ নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

পরবর্তীতে আল আমিন খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, যে দোকানটি তার কাছে বিক্রির কথা বলা হয়েছিল, সেটির মালিকানা নিয়ে শরিকদের মধ্যে আইনি ও পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। ফলে পলাশ এককভাবে দোকানটির মালিক নন। বিষয়টি জানার পর আল আমিন দোকান রেজিস্ট্রি না নিয়ে তার মূল পাওনা টাকা ফেরত চান। কিন্তু টাকা ফেরত না দিয়ে শাহরিয়ার পলাশ বিভিন্ন কৌশলে তাকে ঘোরাতে থাকেন।

নিজের শারীরিক ও আর্থিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে আল আমিন বলেন, “সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর আমি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমার এক পায়ে অস্ত্রোপচার করে রড বসানো হয়েছে এবং পায়ুপথেও অপারেশন করা হয়েছে। চিকিৎসা খরচ চালাতে গিয়ে বর্তমানে চরম অর্থকষ্টে ভুগছি। পাওনা টাকা ফেরত পেতে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে দেনাদারের দৃষ্টি আকর্ষণ ও পাওনা আদায় করতে অনশনে বসেছি।”

শাহরিয়ার পলাশ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “শরিকদের সমস্যার কারণে আল আমিনের কাছে দোকানটি হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। দোকানটি অন্য কোথাও বিক্রি করার চেষ্টা চলছে। এটি বিক্রি করতে পারলেই আল আমিনের পাওনা টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুম খান বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। কিন্তু ভুক্তভোগী কোন অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

   

About

Popular Links

x