Tuesday, August 25, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাবার কবরের জায়গা নিয়ে দুই ভাইয়ের সংঘর্ষ, এবার বাড়িছাড়া বৃদ্ধা মা

স্বামীহারা শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তিনি

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম

বাবার মরদেহ বাড়ির বারান্দায় রাখা অবস্থায় কবরের জায়গা নিয়ে দুই ভাইয়ের সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বৃদ্ধা মাকে ভিটেবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। স্বামীহারা শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন নুরজাহান বেগম। শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন মেয়ের বাড়িতে।

যশোরের কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নের সন্যাসগাছা গ্রামের ঘটনায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে নুরজাহান বেগমের স্বামী আব্দুল খালেক মানের মরদেহ বাড়ির বারান্দায় রাখা ছিল। স্বজনরা যখন দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন বাবার কবরের জায়গা দেওয়া নিয়ে দুই ছেলে মাহাবুর রহমান আসাবুর রহমানের মধ্যে বিরোধ বাধে। একপর্যায়ে স্বজনদের নিয়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন, যাতে উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

এর মধ্যেই বৃদ্ধা নুরজাহানকে ভিটেবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে দুই ছেলের বিরুদ্ধে। স্বামী হারানোর শোকের মধ্যেই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়ে তিনি আশ্রয় নেন মেয়ে নাছিমা বেগমের বাড়িতে। মেয়েজামাই নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে পাঁজিয়া ইউনিয়নের গড়ভাঙ্গা গ্রামে মেয়ের বাড়িতেই আছেন নুরজাহা যা তার নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে।

নুরজাহানের অভিযোগ, ছেলেরা তাকে বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছেন না, এমনকি খাবারও দিচ্ছেন না। তার এই বক্তব্যের ২৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও মঙ্গলবার সকাল থেকে ফেসবুকের বিভিন্ন আইডিতে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। অনেকে মন্তব্য করেছেন, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থাকলেও বাবা-মায়ের মরদেহ বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সরেজমিন মাহাবুর আসাবুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। আসাবুরের ছেলে আল আমিন জানান, তার বাবা চিকিৎসার জন্য বাইরে আছেন, আর বড় চাচা মামলা করেছেন শুনে বাড়িতে আসেননি। তবে দাদি এখন কোথায় আছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।

গৌরীঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের সন্যাসগাছা ওয়ার্ডের সদস্য পংকজ চক্রবর্তী জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকসানা খাতুন জানান, মাকে বাড়িতে ঢুকতে না দেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। তবে ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত মাহাবুর রহমান থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

   

About

Popular Links

x