ট্রাম্পের ‘ড্রোন গাই’ ড্যান ড্রিসকলের পদত্যাগ

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল। প্রায় দেড় বছর এই দায়িত্বে থাকার পর তার বিদায় দেশটির প্রতিরক্ষা প্রশাসনে চলমান পরিবর্তনের ধারায় নতুন ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে।

মাত্র ৪১ বছর বয়সে আর্মি সেক্রেটারির দায়িত্ব পাওয়া ড্রিসকল ছিলেন এই পদে দায়িত্ব পালন করা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস তার দায়িত্ব ছাড়ার খবর জানিয়েছে।

ড্রিসকলের বিদায়ের পেছনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বেশ কিছুদিন ধরেই দুজনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতের অমিল ছিল বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে ঠিক কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছায়, তা প্রকাশ্যে আসেনি।

ড্রিসকলের কাজের প্রশংসা করেছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্টের দপ্তর।

তার এই বিদায় এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন পেন্টাগনের শীর্ষ পর্যায়ে একের পর এক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এর আগে নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলান দায়িত্ব ছেড়েছেন। সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ের আরও কয়েকজন কর্মকর্তাও সাম্প্রতিক সময়ে পদ থেকে সরে গেছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকেও অপসারণ করা হয়েছে।

মার্কিন সেনাবাহিনীর বেসামরিক নেতৃত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি আর্মি সেক্রেটারি। সেনাবাহিনীর প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ন্যাশনাল গার্ড ও রিজার্ভ বাহিনীও এই দপ্তরের তত্ত্বাবধানের আওতায় পড়ে।

ড্রিসকলের সামরিক জীবনের শুরু ২০০৭ সালে। দুই বছর পর ইরাকে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি একটি ক্যাভালরি প্লাটুনের নেতৃত্ব দেন। পরবর্তী সময়ে সামরিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে ড্রোননির্ভর যুদ্ধব্যবস্থার আধুনিকায়নে তার আগ্রহ তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এ কারণেই তিনি ‘ড্রোন গাই’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

শুধু সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন নয়, কূটনৈতিক তৎপরতাতেও ড্রিসকলকে দেখা গেছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টায় তিনি যুক্ত ছিলেন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন।