নেপালের রাসুয়া জেলায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া দুই ব্যক্তিকে ৯ দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের একজন চীনের নাগরিক। উদ্ধারের পর তাদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন এবং তাদের খুঁজে বের করতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নেপাল বিদ্যুৎ বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুরেশ রাউত জানান, উদ্ধার হওয়া দুজনকে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে, তবে সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও ব্যক্তি আটকা থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতি অনুযায়ী, দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে উদ্ধার হওয়া কবির মহারাজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাকে কাঠমান্ডুর আর্মি হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। প্রথম উদ্ধার হওয়া সঞ্জয় শাহকেও একই হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় রাখা হবে।
এ প্রসঙ্গে নেপালের জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ বলেন, “যতক্ষণ শ্বাস আছে ততক্ষণ আশাও আছে, এবং ক্ষতিগ্রস্ত সব টানেলেই উদ্ধার অভিযান চলছে।“ তিনি সবার প্রচেষ্টা ও প্রার্থনা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং আশা না হারানোর কথা বলেন।
গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী একটি পাহাড়ে বড় ধরনের হিমবাহ ও পাথরধস নামে, এরপর কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত ওই অঞ্চল দিয়ে বয়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় সেখানকার বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত শত শত শ্রমিক নিখোঁজ হয়ে যান।
দুর্যোগের পর থেকে নিখোঁজদের খুঁজে বের করার অভিযান চলছে। গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত মোট তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৮৭ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়েছে, আর নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৮৩ জনের বেশি মানুষ। উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত সুড়ঙ্গগুলোয় জীবিত কাউকে পাওয়ার আশায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।