Saturday, September 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বন্যার পর নেপালে নতুন শঙ্কা, বাড়ছে রোগের ঝুঁকি

বিদুর পৌরসভায় খাবার পানির নমুনা পরীক্ষা করে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে 

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম

নেপালে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। এরই মধ্যে নুয়াকোট জেলার বন্যাকবলিত বিদুর পৌরসভায় খাবার পানির নমুনা পরীক্ষা করে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দ্য কাঠমুণ্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট বন্যায় নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি বিদুর। বন্যায় এ এলাকায় অন্তত ২,৭০০ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত  হয়েছেন। তাদের জন্য ২৫টি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিদুরের বিভিন্ন পানির উৎস থেকে স্বাস্থ্যকর্মীরা ১৫টি নমুনা সংগ্রহ করেন। পরীক্ষায় পাঁচটি নমুনায় ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

পৌরসভার জ্যেষ্ঠ ল্যাব টেকনিশিয়ান কৃষ্ণ প্রসাদ রিজাল বলেন, “যেসব পানির নমুনায় ই-কোলাই পাওয়া গেছে, সেসব উৎসে ক্লোরিন প্রয়োগ করা হয়েছে।”

ই-কোলাই সাধারণত উষ্ণ রক্তের প্রাণীর অন্ত্রে থাকে এবং মলমূত্রেও পাওয়া যায়। পানিতে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ওই পানি দূষিত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয় ও টাইফয়েডের মতো পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। একইসঙ্গে হেপাটাইটিস এ ও ই-এর ঝুঁকিও রয়েছে।

দেশটির জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. শরদ রাজ ওন্তা বলেন, “এই দুর্যোগের প্রভাব একাধিক দিক থেকে আসতে পারে এবং এর পরিণতিও বহুমুখী হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “অনেক মানুষ ছোট একটি কক্ষে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে গর্ভবতী নারী, সদ্য মা হওয়া নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।”

বিদুর পৌরসভার স্বাস্থ্য সমন্বয়ক রাজা রাম ভাণ্ডারি জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে ডায়রিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কয়েকটি ঘটনা পাওয়া গেছে। তবে এখনো বড় ধরনের কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়নি। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক রয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার প্রায় ১ লাখ মানুষকে কলেরার টিকা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পরিবার কল্যাণ বিভাগের ইমিউনাইজেশন শাখার প্রধান ডা. অভিযান গৌতম বলেন, “১৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৭৫,০০০ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হবে।”

এছাড়া বাস্তুচ্যুত শিশুদের টিটেনাস ও ডিপথেরিয়ার টিকা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

   

About

Popular Links

x