ভারতের নয়াদিল্লিতে ছয়তলা ভবন ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভবনের ধ্বংসস্তূপে দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
এর আগে, রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লির ঘনবসতিপূর্ণ সত্য নিকেতন এলাকার ওই ছয়তলা ভবনটি ধসে পড়ে। ভবনটিতে একটি ছাত্রাবাস ছিল। এলাকাটি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের কাছে এবং বেসরকারি ছাত্রাবাস হিসেবে পরিচিত।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ, দমকল বাহিনী ও ভারতের দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার সদস্যরা উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। ভারী যন্ত্র দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করে ভেতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধান করা হচ্ছে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা সোমবার ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিকদের বলেন, “উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অন্তত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। ধ্বংসস্তূপের প্রায় ৮০% সরানো হয়েছে এবং এখন শুধু বেসমেন্টের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জন নিহত ও আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।”
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বেসমেন্টে পানি জমে যাওয়া এবং পুরোনো ভবনটিতে চলমান সংস্কারকাজের কারণে ভবনটি ধসে পড়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন গুপ্তা।
তিনি বলেন, “সরকার এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে যার আওতায় জনসাধারণের ব্যবহৃত ভবন—বিশেষ করে ছাত্রাবাস, নার্সিং হোম ও স্কুল এগুলোর নিয়মিত কাঠামোগত পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা সনদ পাওয়ার বাধ্যবাধকতার মধ্যে আসবে। যেসব ভবন এসব শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হবে, সেগুলোতে জনসাধারণের বসবাস অনুমোদন করা হবে না।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভবনটি অন্তত ৫৫ বছরের পুরোনো। কয়েক মাস ধরে জরাজীর্ণ ভবনটিতে সংস্কারকাজ চলছিল। কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও আগস্টে শিক্ষার্থীদের ভাড়াটিয়া হিসেবে সেখানে ওঠানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ চাঁদ জানান, ভবনটি ধসে পড়ার সময় কয়েকজন শ্রমিক বেসমেন্টে খননকাজ করছিলেন।