সলোমন দ্বীপপুঞ্জে সরকার উৎখাতের চেষ্টা, ঠেকালেন প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের গভীর নজরদারির মধ্যে অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হয়ে সরকার উৎখাতের চেষ্টা ঠেকিয়েছেন সলোমন দ্বীপপুঞ্জের প্রধানমন্ত্রী ম্যাথিউ ওয়ালে। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশটির সংসদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে, রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সলোমন দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছান যুক্তরাষ্ট্রের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ। সেখানে পিস কো’র কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় বাহিনী এখানে যুদ্ধ করেছিল।

রবিবার ওয়ালের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাহার করেন এর উদ্যোক্তা মানাসেহ মেলাঙ্গা। ওয়ালেসহ জোট সরকারের পক্ষে আরও কয়েকজন আইনপ্রণেতা অবস্থান নেওয়ায় মেলাঙ্গাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়।

আরেকটি অনাস্থা প্রস্তাবের সুযোগ বন্ধ করতে সোমবার সংসদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি করা হয়।

সংসদে ওয়ালে বলেন, “বাজেট পাস করতে আমরা বড়দিনের আগে ফিরে আসতে চাই।”

তিনি জানান, এই বিরতি সংস্কার ও বিনামূল্যে শিক্ষা চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে ভাবার সুযোগ দেবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী ওয়ালে ২০২২ সালে চীনের সঙ্গে করা নিরাপত্তা চুক্তিটি পর্যালোচনা করছেন। একইসঙ্গে তিনি তার দেশকে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার আরও ঘনিষ্ঠ করছেন। এ কারণে গত সপ্তাহে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশগুলোর নেতাদের সম্মেলন থেকে হঠাৎ ফিরে এসে তাকে অনাস্থা প্রস্তাব মোকাবিলা করতে হয়।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ ফোরামের কূটনীতিকরা এএফপিকে জানান, চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর পথে যাত্রা শুরুর তিন মাস পর ওয়ালের সরকার টিকে যাওয়ার ঘটনায় এ অঞ্চলের নিরাপত্তায় প্রভাব পড়বে।

তাইওয়ানের উপস্থিতিতে চীন অসন্তোষ প্রকাশ করার পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় কয়েকজন নেতা সম্মেলন এড়িয়ে যান।

মে মাসে নির্বাচিত ওয়ালের সরকার অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে নতুন একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। এছাড়া মার্কিন কোস্টগার্ডের টহলের সুযোগ দিতে একটি চুক্তি করেছে। এর পাশাপাশি এমন একটি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা করছে, যেটি নিয়ে আগে চীনের আগ্রহ ছিল।

সলোমন দ্বীপপুঞ্জে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক হাইকমিশনার জেমস ব্যাটলি বলেন, “আমার ধারণা, অস্ট্রেলীয় সরকার এতে স্বস্তি পাবে। ওয়ালে নির্বাচিত হওয়ার এত অল্প সময়ের মধ্যে অনাস্থা প্রস্তাব আনার বিষয়টি সাধারণ মানুষ খুবই খারাপভাবে নিয়েছে।”