ইসরায়েলের জন্য ২৮০ কোটি মার্কিন ডলারের অস্ত্রের একটি প্যাকেজ অনুমোদনের পথে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বড় অস্ত্র সরবরাহ চুক্তি, যার আওতায় ৪০ হাজার এক টন ওজনের বোমা বিক্রি করা হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, মার্কিন করদাতাদের ডলারে অর্থায়ন করা এই প্যাকেজে পশ্চিমা দেশগুলোর অস্ত্রভান্ডারে থাকা সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধাস্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০ হাজার এমকে৮৪ বোমা, ২০ হাজার বিএলইউ ১১৭ বোমা এবং ২০ হাজার আই২০০০ পেনিট্রেটর ওয়ারহেড।
একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে।
দেশটির প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, “বিদেশে সব ধরনের অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে।” তবে বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন কোনো নির্দিষ্ট অস্ত্র চুক্তি নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানান, কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত না করা পর্যন্ত প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রি নিয়ে দপ্তরের নীতিগতভাবে নিশ্চিত করার বা মন্তব্য করার নিয়ম নেই।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর নিজস্ব অস্ত্রভান্ডারে গোলাবারুদের ঘাটতি চলার মধ্যেই ইসরায়েলের জন্য এই অস্ত্র প্যাকেজের খবর সামনে এলো। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র গোলাবারুদের পেছনে ২,২৩০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে ৭৪০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল। ওই প্যাকেজেও এমকে৮৪ বোমা ছিল।
প্রসঙ্গত, গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে উদ্বেগের কারণে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ইসরায়েলের জন্য ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমার একটি চালান আটকে দিয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর ওই বোমা সরবরাহের অনুমোদন দেওয়া হয়।