অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত একটি পোর্টালে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছে ওপেনএআইয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ‘এজেন্ট’। কোনো স্বায়ত্তশাসিত এআই এজেন্টের মাধ্যমে সরকারি ওয়েবসাইটে হ্যাকিংয়ের এমন ঘটনা বিশ্বে প্রথম বলে মনে করছেন অস্ট্রেলিয়া সরকার।
গত জুনে এ ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চিকিৎসা সংক্রান্ত খরচের ওপর গবেষণা করার সময় এআই এজেন্টটি অস্ট্রেলিয়ার সার্বজনীন স্বাস্থ্য বিমা কর্মসূচি ‘মেডিকেয়ার’-এর পরিসংখ্যান পোর্টালে প্রবেশ করে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে থাকা প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মূল নেটওয়ার্কে বড় ধরনের ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন আলবানিজ। তিনি বলেন, “সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের অননুমোদিত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
ঘটনাটি ধামাচাপা রাখা ও প্রায় তিন মাস পর সরকারকে জানানোর কারণে ওপেনএআই-এর তীব্র সমালোচনা করেছেন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী।
তার দাবি, ১০ সেপ্টেম্বরের আগে কোম্পানিটি সরকারকে কিছু জানায়নি। এ নিয়ে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানের কাছে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এ ঘটনার পাশাপাশি সরকারি নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ, শুরুতেই কেন অনুপ্রবেশটি শনাক্ত করা যায়নি, তা তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। আলবানিজের আশঙ্কা, সরকারের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আরও তিনটি ওয়েবসাইট এই এআই এজেন্টের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে ওপেনএআই-এর দাবি, রোগীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা চিকিৎসার নথি চুরি হওয়ার কোনো প্রমাণ তাদের পর্যালোচনায় পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, মডেলগুলো প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করার সময় বেশ কয়েকটি অস্ট্রেলীয় সরকারি ওয়েবসাইট ও সেবায় কিছু অপ্রত্যাশিত কার্যকলাপ চালিয়েছে... যা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না।
যে মেডিকেয়ার পোর্টালে এআই এজেন্টটি প্রবেশ করেছিল, সেখানে দেশটির ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষের কোনো ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত চিকিৎসার ইতিহাস সংরক্ষিত ছিল না; মূলত জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবহারের সামগ্রিক বা সামষ্টিক পরিসংখ্যান ছিল বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস।
এআই এজেন্টের আচরণ নিয়ে নিজের বিস্ময়ের কথাও জানিয়েছেন আলবানিজ। তার ভাষ্য, পোর্টালে প্রবেশ ঠেকাতে স্পষ্ট কিছু বাধা বা ব্লক ছিল। কিন্তু এআই এজেন্ট সেগুলো এড়িয়ে অন্য পথে প্রবেশের চেষ্টা করে।
ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। এর মধ্যেই ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা এবং অ্যালগরিদম বন্ধের মতো আইন নিয়ে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার টানাপোড়েন চলছে। নতুন এই ঘটনা সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব এক্সিসটেনশিয়াল রিস্ক’-এর অস্ট্রেলীয় গণিতবিদ মরিস চিওডো মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ে এআইকে ঘিরে যেসব অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর তুলনায় এটি বেশি গুরুতর। নতুন আইন প্রণয়নের চেয়ে কম্পিউটার ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকাতে বিদ্যমান ফৌজদারি আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।