হোয়াইট হাউসে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকো’র সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নির্দেশ দিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক। তিন সংবাদমাধ্যমের ওপর আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘সম্ভবত অসাংবিধানিক’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মার্কিন ফেডারেল বিচারক টিম কেলি এই আদেশ জারি করেন। বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনকে অবিলম্বে উক্ত সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রেস পাস ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং পরবর্তী ১৪ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রক্রিয়া স্থগিত করেছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে একে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বলে যুক্তি দেওয়া হলেও আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন।
বিচারক কেলি বলেন, মামলা চলাকালীন বাদীপক্ষের প্রেস পাস ফিরিয়ে দিলে কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে বা পাস বাতিল রাখা কেন আবশ্যক—নথিপত্রে সরকারের এই দাবির স্বপক্ষে বাস্তব কোনো প্রমাণ নেই।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প নিজেই প্রকাশ্যে জানান যে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনের ‘কথিত অসত্যতা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি’র কারণেই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউস কিংবা তিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
স্থানীয় সময় বুধবার অনুষ্ঠিত শুনানিতে বিচারক টিম কেলি বলেন, 'ইউএস কোর্ট অব আপিলস ফর দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট'-এর দুটি পূর্ববর্তী নজির থেকে এটি স্পষ্ট যে, সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের প্রেস পাস বাতিল করার আগে তাদের আইনি প্রক্রিয়াগত অধিকার পাওয়ার সুযোগ দিতে হয়।
তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রমাণ দেখে মনে হচ্ছে না যে হোয়াইট হাউস সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোকে তাদের প্রবেশাধিকার বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দিয়েছিল।
সংবাদমাধ্যমগুলোর পক্ষের আইনজীবী বিচারক কেলিকে জানান, আইনসম্মত আগাম নোটিশ বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ দেওয়া ছাড়াই তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এটিকে নজিরবিহীন, অযৌক্তিক এবং অত্যন্ত কঠোর শাস্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
অপরদিকে, দেশটির বিচার বিভাগের এক আইনজীবীর জানান, মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমগুলোকে পাঠানো চিঠিতে প্রেস পাস বাতিলের বিষয়ে পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে বিচারক সরকারের এই যুক্তির বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, চিঠিগুলো মূলত পাস বাতিল করার পর পাঠানো হয়েছে। এর আগেই আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সোমবার ওয়াশিংটনের এক ফেডারেল আদালতে ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌথভাবে মামলা দায়ের করে তিনটি সংবাদমাধ্যম। তাদের দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে নিশ্চিত করা বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষাকে খর্ব করেছে এবং তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করেছে। আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন যেন অবিলম্বে তাদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সুযোগ পুনর্বহাল করা হয়, সেজন্য একটি সাময়িক স্থগিতাদেশের আবেদন জানায় তারা।