যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও ফিলাডেলফিয়াসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোয় আছড়ে পড়েছে শক্তিশালী ঝড়।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দেশটিতে শরৎকালীন ঝড় হিসেবে পরিচিত ‘নর ইস্টার’ কারণে এসব এলাকার ৬০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে এলাকাগুলোয় জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা।
বার্তাসংস্থা এএফপি’র এক প্রতিবেদনে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে একজনের মৃত্যুর কথাও বলা হয়েছে।
এএফপি বলছে, এই তিন শহরই সরাসরি ‘নর’ইস্টার’ ঝড়ের কবলে পড়েছে। উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবল বাতাস বয়ে আসায় ঝড়টিকে ‘নর’ইস্টার’ বলা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, শনিবার বিকেলেও ঝড়টি উত্তর আটলান্টিকের মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণ নিউ ইংল্যান্ড উপকূলের কাছে অবস্থান করে। এর প্রভাবে সেখানে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়।
এর আগে, আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছিলেন, রাতের মধ্যে ঝড়টি নিউ জার্সি ও লং আইল্যান্ডের দিকে অগ্রসর হবে। ফলে রবিবার সকালে ওই অঞ্চলে নর’ইস্টারের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছিলেন তারা।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট পাওয়ারআউটেজ.কম-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড ও পেনসিলভানিয়ায় ৬০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে লং আইল্যান্ডে ১৫ সেন্টিমিটার (প্রায় ৬ ইঞ্চি) পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল শহর নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি প্রবল বাতাস ও বিদ্যুতের ছেঁড়া তার সম্পর্কে নগরবাসীকে সতর্ক করেছেন। প্রয়োজন না হলে বাইরে বের না হওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।
এদিকে, ঝড়ের কারণে শনিবার সকালে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। শুধু বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই ২৫৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। পুরো অঞ্চলজুড়ে ফ্লাইট বিলম্বের খবরও পাওয়া গেছে। ফ্লাইট চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ফ্লাইটঅ্যাওয়ার এ তথ্য জানিয়েছে।
জেটব্লু, ইউনাইটেড ও আমেরিকান এয়ারলাইনসসহ বড় কয়েকটি বিমান সংস্থা যাত্রীদের জন্য বিশেষ ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। এর আওতায় কোনো অতিরিক্ত ফি ছাড়াই যাত্রীরা তাদের ফ্লাইট পরিবর্তন করতে পারছেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বিশ্বনেতারা যখন নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন, তখন জাতিসংঘও শক্তিশালী বাতাসের কারণে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে সদর দপ্তরের বাইরে স্থাপিত সম্প্রচার সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে বলেছে।
নর’ইস্টার বছরের যে কোনো সময় হতে পারে। তবে শরৎ থেকে বসন্তের শুরুর সময় পর্যন্ত এ ধরনের ঝড় বেশি দেখা যায়। সাধারণত এর সঙ্গে ভারী বৃষ্টি বা তুষারপাত এবং প্রবল ঝোড়ো বাতাস থাকে।
চলতি বছরের শুরুতেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি নর’ইস্টার আঘাত হেনেছিল। ওই ঝড়ে শত শত ফ্লাইটের চলাচল ব্যাহত হয় এবং হাজার হাজার বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
এর কয়েক সপ্তাহ আগে অঞ্চলটি একটি ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ের ধকল কাটিয়ে উঠেছিল। ওই দুর্যোগে ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।