Wednesday, September 23, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এবার চালু হলো ‘ট্রাম্প টিভি’

গত সোমবার সন্ধ্যায় চ্যানেলটির সম্প্রচার শুরু হয়

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম

হোয়াইট হাউস ‘ট্রাম্প টিভি’ নামে একটি স্ট্রিমিং চ্যানেল চালু করেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চ্যানেলটির সম্প্রচার শুরু হয়।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হোয়াইট হাউস অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে জানিয়েছে, ‘ট্রাম্প টিভি’ এখন সরাসরি সম্প্রচারে এসেছে। এটি ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন চলবে এবং নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে।

চ্যানেলটি চালুর পর এতে গত ৩ জুলাই মাউন্ট রাশমোরে দেওয়া ট্রাম্পের একটি বক্তব্যের আর্কাইভ ভিডিও দেখানো হচ্ছিল।

প্ল্যাটফর্মটিতে ট্রাম্পের আগের বিভিন্ন জনসম্মুখে উপস্থিতি ও বক্তব্যের ভিডিও দেখানো হয়। এর মধ্যে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানও ছিল।

হোয়াইট হাউসের সঙ্গে দেশটির কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বিরোধ চলাকালে চ্যানেলটি চালু হলো।

ট্রাম্প টিভি

গত শুক্রবার ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেন। এরপর সংবাদমাধ্যম তিনটি আদালতের দ্বারস্থ হয়। শনিবার তাদের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং প্রেস পাস জব্দ করা হয়।

এর প্রতিবাদে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পাঁচটি সম্প্রচারমাধ্যম - এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, ফক্স ও এনবিসি - হোয়াইট হাউসের ‘পুল’ কভারেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে, সরকার সম্পর্কে নির্ভুল ও নিরপেক্ষ তথ্য পাওয়ার বিষয়টি জনগণের স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পছন্দ না হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়।

‘পুল কভারেজ’-এর মাধ্যমে সাধারণত এক বা একাধিক সংবাদমাধ্যম হোয়াইট হাউসের দিনের ভিডিও ধারণ করে এবং অন্য টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও সেই ফুটেজ ব্যবহার করতে পারে। সোমবার হোয়াইট হাউসের টিভি পুল হিসেবে কাজ করার কথা ছিল সিএনএনের।

এই বিরোধের কারণে ট্রাম্পের নতুন হেলিপ্যাড উদ্বোধন এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দেওয়ার ঘটনাগুলো টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়নি। সাউথ লনে নির্মিত গ্রানাইটের হেলিপ্যাডটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুধু হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের পুরো শব্দ শোনা যায়নি।

হোয়াইট হাউসে কাজ করা এএফপিসহ কয়েকটি ফটো সংবাদমাধ্যমও নিষিদ্ধ তিন প্রতিষ্ঠানের প্রতি সংহতি জানিয়ে হেলিপ্যাডে ট্রাম্পের ছবি প্রকাশ বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

সংবাদমাধ্যম নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান

ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করে তাদের ‘ক্যান্সার’ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি বলেন, “হোয়াইট হাউস স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে না; বরং ভুয়া সংবাদ প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।”

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে বামপন্থি প্রচারণা ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এসব প্রতিষ্ঠান সংবাদ প্রকাশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখতে পারবে, তবে হোয়াইট হাউসে তাদের আর কোনো অফিস থাকবে না।”

তিন সংবাদমাধ্যমের করা মামলায় বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে থাকা মুক্ত সংবাদমাধ্যমের অধিকারের লঙ্ঘন। আদালত আগামী বুধবার মামলাটির শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।

শুক্রবার নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় ট্রাম্প জানান, গত দুই বছরের ধারাবাহিক প্রতিবেদনই এর মূল কারণ। তবে তিনি বিস্তারিত কারণ জানাননি। একইসঙ্গে অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে তার নির্বাচনী প্রচার ও প্রশাসনের সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশকারী সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়ে আসছেন। তিনি বারবার সংবাদমাধ্যমকে ‘জনগণের শত্রু’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তবে এমন এক সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো, যখন ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থনের হার রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

   

About

Popular Links

x