ইরানের নাগরিকদের যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়ায় ইরাকের তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি। একই সঙ্গে তিনি ইরাকের সার্বভৌমত্ব ও বৈধতার সীমা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভেলায়াতি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ শুক্রবার ভোর থেকে ইরানের সব ফ্লাইট পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। সরকারের নির্দেশনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে শনিবার ভয়েস অব এমিরেটসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তেহরানের এ প্রতিক্রিয়া এমন সময় এলো, যখন ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। নতুন নিষেধাজ্ঞায় দেশটির বিমান চলাচল খাতসংশ্লিষ্ট প্রায় ৩৬টি কোম্পানিকে নিশানা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি বেসামরিক বিমান চলাচলকারী কোম্পানি।
শনিবার ইরাকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিমান চলাচলের বিষয়টি নিয়ে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করছে।
এর মধ্যেই নাজাফ বিমানবন্দর বন্ধের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানান মুজতাবা খামেনির পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ভেলায়াতি।
এক্স পোস্টে ভেলায়াতি জানান, নাজাফ বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিভাজন স্পষ্ট হয়েছে। ধর্মীয় স্থানগুলোতে যাতায়াতের জন্য বিমানবন্দরটি ব্যবহৃত হতো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানিকে উদ্দেশ করে ভেলায়াতি বলেন, “জনাব আল-সুদানি, বৈধতা ওয়াশিংটন থেকে আসে না; আসে নাজাফের মাটি ও শহীদদের রক্ত থেকে।”
এ ছাড়া তেহরানপন্থি ‘কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ জোটে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভেলায়াতি বলেন, “সামরিক যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের ক্ষতিপূরণ করতে শত্রুপক্ষ ভেতর থেকে ‘ফ্রন্টগুলোর ঐক্য’ বিনষ্টের চেষ্টা করছে।”
শেষে তিনি বলেন, “রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ ময়দানগুলো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন করা যায় না; সানা থেকে নাজাফ পর্যন্ত প্রতিরোধ ফ্রন্ট ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।”