সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষতার নীতি আরও কঠোর করার প্রস্তাব নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে ।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে দেশটির গণতন্ত্র ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। তবে এর আগেই বেশিরভাগ মানুষ ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন।
দেশটির কট্টর ডানপন্থীদের সমর্থিত এই উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। বিরোধীরা উদ্যোগটিকে ‘রাশিয়াপন্থী’ বলেও অভিহিত করেছেন।
শুরুতে কয়েকটি জনমত জরিপে ভোটের ফলাফল খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। তবে সর্বশেষ দুটি জরিপে দেখা গেছে, ৬০%-এর বেশি ভোটার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।
সুইস জনগণ সাধারণভাবে তাদের দেশের নিরপেক্ষতাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করেন। তবে সংবিধানে নিরপেক্ষতার একটি কঠোর সংজ্ঞা যুক্ত করার এই উদ্যোগ দেশটির নিরপেক্ষতার প্রকৃত অর্থ কী—তা নিয়ে গভীর মতপার্থক্য সামনে এনেছে।
ঐতিহ্যগতভাবে সুইজারল্যান্ডের অবস্থান হলো, শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা বজায় রেখে সামরিকভাবে নিরপেক্ষ থাকা। কিন্তু ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর সংঘাতে সুইজারল্যান্ডের কতটা সম্পৃক্ত হওয়া উচিত, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
দেশটির বার্ন সরকারের ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ই্ইউ) অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা সমর্থনের সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন হয়ে সার্বভৌমত্বপন্থী সংগঠন ‘প্রো সুইজারল্যান্ড’ সংবিধানে নিরপেক্ষতাকে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে গণভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বাক্ষর সংগ্রহ করে।
অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ডের ইইউর নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেওয়ার সমালোচনা করে আসছে রাশিয়া। এ ছাড়া, বার্ন তাদের নিরপেক্ষতা পরিত্যাগ করেছে বলে অভিযোগ করেছে। একইসঙ্গে মস্কো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে এর বিরোধীরা এটিকে ‘রাশিয়াপন্থী’ উদ্যোগ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
প্রস্তাবে সুইজারল্যান্ডের সংবিধানে নিরপেক্ষতাকে ‘সশস্ত্র ও চিরস্থায়ী’ হিসেবে নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতার ঐতিহ্য ১৫১৬ সাল থেকে চলে আসছে। ১৮১৫ সাল থেকে তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। প্রস্তাবটি পাস হলে দেশটি ন্যাটোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে না। একইসঙ্গে দেশ আক্রান্ত না হলে কোনো সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগও থাকবে না। এ ছাড়া জাতিসংঘের আহ্বান ছাড়া কোনো দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে থাকা উভয়ই বলছে, তারা সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে চায়। তবে সুইস সরকার ও দেশটির পার্লামেন্ট প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, এটি অতিরিক্ত কঠোর এবং বর্তমান সময়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে দেশটির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সীমিত করবে।
সম্প্রতি টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিতর্কে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিস বলেন, “নিরপেক্ষতা সবসময় কিছুটা নমনীয়ভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে এর অর্থ উদাসীন থাকা নয়।”
তিনি আরও জানান, ইউক্রেনসহ সংঘাতপূর্ণ দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রির ওপর সুইজারল্যান্ডের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।
দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রায় সবাই এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। তবে সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল কট্টর ডানপন্থী সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি) এর পক্ষে রয়েছে।
টেলিভিশন বিতর্কে এসভিপির ভাইস প্রেসিডেন্ট সেলিন আমোদরু বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শান্তি, কূটনীতি ও সংলাপকে উৎসাহিত করা। এর জন্য চিরস্থায়ী নিরপেক্ষতার মাধ্যমে আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে হবে।”