শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, আটক ৪৪০

শিক্ষকসংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, দুর্বল অবকাঠামো ও পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। 

বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্যারিসে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ থেকে এই আন্দোলনের শুরু।

বিক্ষোভে অন্তত ১০ জন শিক্ষক, কয়েকজন শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৪৮ সদস্য আহত হয়েছেন। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অন্তত ৪০০ স্কুলে এই বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে।  

ছবি ও ভিডিওতে কয়েকটি জায়গায় আগুন জ্বলতে এবং বাসস্টপ ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখা গেছে। 

এএফপিকে ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রী জানায়, তারা কোনো কারণ ছাড়াই ভাঙচুর করতে বিক্ষোভে নামেননি। শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যাগুলো তুলে ধরতেই তারা আন্দোলন করছেন। তার ভাষ্য, প্রতিটি শ্রেণিতে ৩৪ জন করে শিক্ষার্থী থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষকরাও অতিরিক্ত কাজের চাপে রয়েছেন।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে। তবে সহিংসতার ঘটনাকে তিনি ‘কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেন।

বিএফএমটিভিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ বলেন, “৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সংখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।”

ফরাসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন। জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করে। 

শিক্ষার্থীদের সংগঠন ইউনিয়ন সিন্দিকাল লিসেয়েনের সভাপতি রিয়াদ রানি এএফপিকে জানান, ফরাসি সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগেরও অভিযোগ করেন তিনি। 

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কয়েকজন ফরাসি রাজনীতিক সমালোচনা করলেও নুনেজ আরও বলেন, “পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের পদক্ষেপ অত্যন্ত সংযত ছিল।”

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, “বিক্ষোভের অধিকার একটি মৌলিক স্বাধীনতা। তবে এই অধিকারকে সহিংসতার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।” অবরোধ আরও বাড়ানোর আহ্বান শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

যুক্তরাজ্যের ষষ্ঠ ফর্ম বা যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলের সমপর্যায়ের ফরাসি ‘লিসে’ স্কুলগুলোতে গত সপ্তাহে প্যারিসের আশপাশের ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে এই আন্দোলন শুরু হয়। সোমবার প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেন। এর আগে বিক্ষোভ থেকে ১৬৪ জনকে আটক করা হয়েছিল।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পাশাপাশি মঙ্গলবার দেশজুড়ে শিক্ষক, হাসপাতালকর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের ইউনিয়নগুলোর ডাকা কর্মবিরতিও পালিত হয়েছে। কম বেতন ও কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।

নুনেজ জানান, এসব কর্মসূচিতে অন্তত ২ লাখ মানুষ অংশ নিলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।