ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, এক দিনেই গ্রেপ্তার ১,৭৪৭

শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের সংকট, জরাজীর্ণ ভবন এবং অর্থ বরাদ্দসহ বিভিন্ন দাবিতে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী প্যারিসে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন মঁপেলিয়ে, নঁত ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে অংশ নিয়েছে ৭০০-এর বেশি হাইস্কুলের শিক্ষার্থী।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এদিন ১,৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ।

বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভের কারণে দেশটির ৩,৭০০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৩৫টি কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিচারমন্ত্রী জেরার্ড দারমানিন। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি এখন শুধু শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে নেই, এটি জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় পরিণত হয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে পেট্রলবোমা, কুঠার ও আতশবাজি জব্দ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে তাদের অন্তত ৬৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ ফরাসি টিএফ-১ টেলিভিশনকে বলেন, “পরিস্থিতি দাঙ্গা ও নগর সহিংসতার দিকে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বলেন, “শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।”

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেলফোর শহরে বিক্ষোভের সময় এক পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার সন্দেহে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিবিসির যাচাই করা ভিডিওতে ওই পুলিশ সদস্যকে কয়েকজন তরুণের ধাওয়া এবং পরে মাটিতে ফেলে মারধরের দৃশ্য দেখা গেছে।

এছাড়া প্যারিসের উপকণ্ঠ পান্তিনে পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছোড়া হলে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্ট্রাসবুর্গে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। রেন ও প্যারিসে আবর্জনার ঝুড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ১৬ বছর বয়সী লোলা এএফপিকে জানিয়েছে, পুলিশের ভূমিকা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। তার অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

এদিকে বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে জব্দ করা বিভিন্ন সামগ্রীর ছবি প্রকাশ করেছে পুলিশ। এসব সামগ্রীর মধ্যে পেট্রলবোমা, কুঠার ও আতশবাজি রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।