নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নিখোঁজ হওয়া এক মালয়েশিয়ান পর্যটকের ৩৭ দিন পর সন্ধান মিলেছে। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর তিনি নিরাপদে নিজ দেশে ফিরেছেন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান ‘মালয়েশিয়া সলিডারিটি: ফ্যামিলিজ ইন হোপ’ (মাসফি)-এর মুখপাত্র মনিভান্নান রেথিনাম।
সংগঠনটি জানায়, নেপাল সফরে যাওয়া ওই পর্যটক কাঠমান্ডুতে মালয়েশিয়ার দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে নিজের নিরাপদ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দীর্ঘ সময় পর তার ফিরে আসার খবরে এখনো নিখোঁজ থাকা অন্য মালয়েশিয়ার অন্য নাগরিকদের স্বজনদের মধ্যেও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের আগের দিন ২৫ আগস্ট বিকেল ৩টা ২৬ মিনিটে তাকে সর্বশেষ নাগথালি ভিউপয়েন্ট এলাকায় দেখা যায়। পরদিন ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ওই এলাকার সড়ক ও সেতু ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেওয়ায় তিনি দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েন।
এর আগে, ২৭ আগস্ট মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, বন্যার পর নেপালে অবস্থানরত ৫৫ মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে কাঠমান্ডুর মালয়েশিয়ান দূতাবাসের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হিমালয়ের লাংটাং লিরুং পর্বতের কাছে হিমবাহ ও বরফ ধসের কারণে সৃষ্ট কম্পনের শক্তি ছিল ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপাল ও পার্শ্ববর্তী তিব্বত অঞ্চলে ১,৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্গত এলাকাগুলোর যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযানও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নেপালের পর্যটন দপ্তরের ১৭ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও চীনসহ ৩০টির বেশি দেশের নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।