চিকিৎসাশাস্ত্রে যৌথভাবে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী

চিকিৎসাশাস্ত্রে যৌথভাবে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডাইসেরথ এবং জার্মানির পিটার হেগেমান ও গেয়র্গ নাগেল। বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু হয়েছে।

আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিক্স সম্পর্কিত আবিষ্কারের জন্য কার্ল ডেইসারোথ, পিটার হেগেমান এবং জর্জি নাগেলকে চিকিৎসাশাস্ত্রে বা শারীরতত্ত্বে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার জয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি তাদের এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আগামীকাল মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান, বুধবার রসায়ন, বৃহস্পতিবার সাহিত্য এবং শুক্রবার শান্তিতে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। আগামী ১২ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে অর্থনীতিতে নোবেল জয়ীর নাম। নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। বাকি বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে সুইডেনের স্টকহোম থেকে।

আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে অর্থ, সনদ ও স্বর্ণপদক।

চিকিৎসাশাস্ত্রের পাশাপাশি পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, অর্থনীতি, সাহিত্য এবং শান্তিতে অবদান রাখা ও অর্জনের জন্য এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। নোবেল পুরস্কার দেওয়ার প্রবর্তন করেছিলেন ধনী সুইডিশ উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেল। তিনি তার উইলে (ইচ্ছাপত্র) উল্লেখ করেছিলেন, তার সম্পত্তি মানবকল্যাণে বিশেষ অবদান রাখার জন্য পুরস্কার প্রদানের কাজে ব্যয় করা হবে। নোবেল ১৮৯৫ সালে মারা যান। তবে তার উইল নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পর ১৯০১ সালে প্রথম নোবেল পুরস্কার প্রদান করা শুরু হয়।

নোবেল তার উইলে রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানের জন্য পুরস্কার প্রদানের দায়িত্ব রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেসকে দিয়েছেন। এছাড়া সাহিত্য পুরস্কার প্রদানের দায়িত্ব সুইডিশ একাডেমিকে এবং চিকিৎসাশাস্ত্রে পুরস্কার প্রদানের দায়িত্ব সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটকে দিয়েছিলেন। শান্তির জন্য পুরস্কার নরওয়ের পার্লামেন্ট থেকে প্রদান করা হলেও, নোবেল কেন শান্তি পুরস্কারের দায়িত্ব নরওয়েকে দিয়েছিলেন তা অজানা। তখন নরওয়ে এবং সুইডেন একটি রাজনৈতিক ইউনিয়নে ছিল।

১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেদের ৩০০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে এবং আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তন করে। এই পুরস্কারটি নোবেল ফাউন্ডেশনের নিয়ম অনুযায়ী রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস প্রদান করে।