Monday, October 26, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হঠাৎ ভেনেজুয়েলায় ফিরলেন নির্বাসিত মাচাদো

দেশে ফিরেই যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ জানান তিনি

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

প্রায় এক বছর নির্বাসনে থাকার পর হঠাৎ নিজ দেশ ভেনেজুয়েলার ফিরেছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের ঢল নামে। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) দেশে ফিরেই যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বিরোধী দলের এই নেত্রী।

মাচাদো রাজধানী কারাকাসের দিকে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে যাওয়ার সময় মহাসড়ক, টোল প্লাজা ও শহরের সড়কগুলোতে হাজার হাজার মানুষ ভেনেজুয়েলার পতাকা হাতে জড়ো হন।

গুয়াকারায় দেখা যায়, একটি জনাকীর্ণ চত্বরে সমর্থকদের সঙ্গে জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ মেলাচ্ছেন মাচাদো। সেখানে উপস্থিত লোকজন পতাকা হাতে তার সঙ্গী হন। সাদা টি-শার্ট ও নীল জিনস পরা মাচাদো গাড়ির সানরুফ দিয়ে শরীরের ওপরের অংশ বের করে জনতার উদ্দেশে হাত নাড়েন।

মাচাদোর প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে প্রভাবশালী এই বিরোধী নেত্রী আবারও দেশটির অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আলোচনায় চলে এলেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের জন্য তিনি গোপনে দেশ ছাড়েন। এর আগে প্রায় এক বছর আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।

দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, এরপর ভেনেজুয়েলায় ফেরার অন্তত সাতবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন ৫৯ বছর বয়সী এই নেত্রী।

অবশেষে রবিবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বারকিসিমেতোর সান্তা রোসা গির্জায় তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়। সেখানে সমর্থকেরা ‘মারিয়া কোরিনা দীর্ঘজীবী হোন’ স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান।

নির্বাসন থেকে প্রত্যাবর্তন

ভেনেজুয়েলার নির্বাসিত দুই নাগরিক এএফপিকে জানিয়েছেন, মাচাদো প্রতিবেশী কলম্বিয়া হয়ে দেশে প্রবেশ করেছেন। তবে কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেনি।

গত কয়েক মাসে ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে। নয় মাস আগে মাচাদোর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক অভিযানে আটক করে দেশটিতে নিয়ে কারাগারে রাখা হয়।

তবে গণতন্ত্রপন্থী বিরোধীদের হতাশ করে মাদুরোর ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। ওয়াশিংটনও তার ক্ষমতা গ্রহণে সমর্থন দেয়। অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো তারিখ ঘোষণা করেনি।

গত সপ্তাহে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেন। তাদের দাবির মধ্যে ছিল মাচাদোর দেশে প্রত্যাবর্তন ও নির্বাচন আয়োজন। এরপর থেকে পানামায় নির্বাসনে থাকা মাচাদোকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে চলা রাজনৈতিক উত্তরণবিষয়ক আলোচনা দূর থেকে দেখতে হয়েছে। এসব আলোচনায় তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য মাচাদো বারবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন। এমনকি নিজের পাওয়া নোবেল পদকও তাকে উপহার দিয়েছেন।

ভেনেজুয়েলার কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো পূরণ করায় রদ্রিগেজের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। এসব দাবির মধ্যে দেশটির তেলসম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার অন্যতম।

মাচাদোর প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, তিনি খুব ভালো একজন নারী। তিনি আমাকে তার নোবেল পুরস্কার দিয়েছেন, তাই তাকে নিয়ে আর কী-ই বা বলতে পারি?

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটনের সমর্থনে চলা আলোচনার কারণেই মাচাদোর দেশে ফেরা সম্ভব হয়েছে।

   

About

Popular Links

x