এবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই।
শান্তি এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রচারে প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের ওসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস এই পুরস্কার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘‘যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার মতো অপরাধ বিচারের আওতায় আনা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন নাভি পিল্লাই।’’
নোবেল কমিটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পিল্লাইয়ের অগ্রণী ভূমিকার পাশাপাশি তার বিচারিক দৃঢ়তা, ব্যক্তিগত সততা ও সাহসকে গুরুত্ব দিয়েছে তারা।
নাভি পিল্লাই ১৯৪১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত একটি পরিবারে জন্ম নেন। আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষে তিনি বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা ব্যক্তিদের পক্ষে আইনি লড়াই শুরু করেন। ১৯৬৭ সালে ডারবানে নিজের আইনি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৮৮ সালে সেখান থেকে আইন বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক নিযুক্ত হন পিল্লাই। চার বছর পর তিনি রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সভাপতি হন। সেখানে যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ এবং ঘৃণার ছড়ানোর মতো কর্মকাণ্ড কীভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে বিচারের আওতায় আসতে পারে, তা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন তিনি।
এরপরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন।
এছাড়াও, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতিত্ব করা এবং মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের অস্থায়ী বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।