নোবেল পুরস্কার নিয়ে ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘নোবেল শান্তি পুরস্কার তার পাওয়া উচিত।’’

কবে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই। ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, "তাদের সিদ্ধান্ত কী হতে যাচ্ছে, তা আমি জানি না। আমার মতো মানুষদের হয়তো পুরস্কার না দেওয়ার জন্য তাদের একটা সুনাম (বা অপনাম) আছে।"

গত বছর হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার নিজের প্রাপ্য বলে বারবার দাবি করে আসছেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, "এখন তো সেটারই সময় হয়েছে। তবে গতবার যিনি এটি পেয়েছিলেন, তার কাছ থেকে পরোক্ষভাবে এই সম্মান গ্রহণ করতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত বোধ করেছিলাম। কারণ, তিনি বলেছিলেন, ইতিহাসের আর কেউ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে এটি পাওয়ার জন্য বেশি যোগ্য নন।"

ভেনেজুয়েলায় নিজের প্রচেষ্টায় মার্কিন সমর্থন পাওয়ার অংশ হিসেবে দেশটির বিরোধী দলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো গত জানুয়ারিতে ট্রাম্পকে তার ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি উপহার দেন।

গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আটটি সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেকে যুক্ত করার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, তার এই পুরস্কার পাওয়া উচিত।

কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে তাদের এই দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করার কোনো উপায় নেই।

ট্রাম্প যেসব সংঘাত সমাধান করেছেন বলে দাবি করেন, সেগুলোর কয়েকটিতে জড়িত পক্ষগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে। এ ছাড়া, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী এলাকাসহ কয়েকটি অঞ্চলে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধের বিষয়েও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি ট্রাম্প। অথচ হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর প্রথম দিনেই যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার কারণে টানা সাত মাস ধরে চলা উত্তেজনাপূর্ণ সংঘাত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানির দামেও, যা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য চাপ তৈরি করেছে।