যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পর ট্রাম্প প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান যুদ্ধ সামলানোয় ব্যর্থতার অভিযোগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পদত্যাগ করতে পারেন, এমন গুঞ্জন চাউর হলেও হোয়াইট হাউজ তা জোরালোভাবে নাকচ করেছে। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের এই ভরাডুবির পেছনে ইরান যুদ্ধকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। এই সংঘাতের জেরে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণই ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেছে বলে স্বীকার করেছেন তারা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিবিসি জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অবস্থান আপাতত নিরাপদ মনে হলেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বেশ অনিশ্চিত। ইরান যুদ্ধ পরিচালনার কারণে হেগসেথকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জোরালো দাবি উঠেছে। এমনকি কংগ্রেস থেকে বিদায় নিতে যাওয়া রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ও ট্রাম্পের কড়া সমালোচক টমাস ম্যাসি আগামী সপ্তাহেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব তোলার ঘোষণা দিয়েছেন।
পলিটিকোকে ম্যাসি জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই তিনি এই প্রস্তাব তুলবেন। পাশাপাশি এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ট্রাম্পকে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, জানুয়ারিতে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত নতুন কংগ্রেস বসার আগেই প্রেসিডেন্টের উচিত হেগসেথকে সরিয়ে সেনেটের মাধ্যমে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া। এদিকে হেগসেথ টেনেসি অঙ্গরাজ্যের একটি শূন্য সেনেট আসনে নির্বাচন করতে পারেন বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
তবে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে এক ভিডিও বার্তায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ নিজের কাজের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি একে ‘অভিশংসনের ভুয়া নাটক’ উল্লেখ করে বলেন, “তারা আমাকে আক্রমণ করছে কারণ আমরা কার্যকর ভূমিকা রাখছি। একজন ক্ষুব্ধ ও পরাজিত আইনপ্রণেতা এবং তার ডেমোক্র্যাট সহযোগীরা রাজনৈতিক নাটক সাজিয়ে ব্যক্তি ধ্বংসের নোংরা রাজনীতি করছে। আমরা পিছু হটব না।”
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হেগসেথের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, হেগসেথকে স্বপদে বহাল রাখার তার পূর্ণ ইচ্ছা রয়েছে। হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “পিট হেগসেথ অসাধারণ কাজ করেছেন।” এ সময় তিনি গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার এবং ইরান সংঘাতে হেগসেথের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এদিকে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, সংঘাতের দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী সামরিক বাহিনীর শীর্ষ দুই কমান্ডার, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথাও ভাবছেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য দায়িত্ব ছাড়ছেন বলে যে গুঞ্জন রটেছিল, তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করে যাওয়াটাই তাঁর পরিকল্পনা ছিল। হোয়াইট হাউজ ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও রুবিওর বিদায়ের খবরকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।



