Thursday, November 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি, নেপথ্যে যে ৪ কারণ

সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে এই চার প্রধান অনুঘটক তুলে ধরা হয়েছে

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে ‘ইরান যুদ্ধ’কে দায়ী করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কেবল এই যুদ্ধই দলটির পরাজয়ের একমাত্র কারণ নয়; এর নেপথ্যে জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া ব্যয়, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় ভাটা এবং রাজনৈতিক কৌশলে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যসহ অন্তত আরও চারটি বড় কারণ কাজ করেছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে এই চার প্রধান অনুঘটক তুলে ধরা হয়েছে।

১. জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া ব্যয়
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে ভোটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে গত এক বছরে মূল্যস্ফীতি ৩.৭ শতাংশে পৌঁছায়। অক্টোবরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালনে রেকর্ড ৬ ডলার ৫২ সেন্টে গিয়ে ঠেকে। নির্বাচনপরবর্তী জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৭৯ শতাংশ ভোটার স্বীকার করেছেন যে মূল্যস্ফীতির কারণে তাঁরা গুরুতর বা মাঝারি আর্থিক সংকটে পড়েছেন। উপরন্তু, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৬ জনের বেশি উত্তরদাতা বর্তমান এই অর্থনৈতিক সংকটের জন্য সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করেছেন।

২. সংগঠিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও প্রার্থী বাছাই
জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্বাস্থ্যসেবার মতো বাস্তব সমস্যাগুলোকে এজেন্ডা বানিয়ে সুসংহত প্রচার চালিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। টেক্সাস ও কানসাসের মতো ঐতিহ্যগত রিপাবলিকান ঘাঁটিতেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা সাড়া ফেলেছেন। সাউথ ক্যারোলাইনায় সাবেক শিশু চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুজ এবং মিশিগানে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল এল-সাইয়েদ তাঁদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি দিয়ে বড় জয় নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ সহজেই পুনর্নির্বাচিত হন। রিপাবলিকান প্রার্থীদের দুর্বল প্রচারের সমালোচনা করে ডেমোক্র্যাটদের কৌশলের প্রশংসা করেছেন স্বয়ং ট্রাম্পও।

৩. ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস
অর্থনৈতিক মন্দা ও ইরান যুদ্ধ, যে দুটি বিষয়ে ভোটারদের সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ ছিল, সে দুটিই সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। নির্বাচনে নিজের ব্যক্তিগত প্রভাব বা ‘পলিটিক্যাল ব্র্যান্ড’ কাজে লাগিয়ে সমর্থকদের টানা চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প। তবে তার বিরুদ্ধে জনমানসে জমা হওয়া ক্ষোভের কারণে সেই কৌশল চূড়ান্ত উল্টো ফল দিয়েছে এবং রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতা কমেছে।

৪. হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারের অবস্থান পরিবর্তন
২০২৪ সালের নির্বাচনে যে হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সমর্থনে ট্রাম্প জয় পেয়েছিলেন, দুই বছরের মাথায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে সেই সমীকরণ বদলে গেছে। টেক্সাস-মেক্সিকো সীমান্তবর্তী হিস্পানিক সংখ্যাগরিষ্ঠ তিনটি আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগের নির্বাচনের তুলনায় এবার হিস্পানিক সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোতে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীদের সমর্থন ২২ শতাংশেরও বেশি কমেছে। মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় এই ভোটার দল পরিবর্তন ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

   

About

Popular Links

x